ঢাকা শুক্রবার, জুন ২৬, ২০২৬

ছেলে মেয়েদের সুশিক্ষিত মানুষ বানাতে পারলে জীবনে বেঁচে থাকার স্বাদ অনেক বলে মনে করেন দৃষ্টি প্রতিবন্দি সামিউল হক

একজন সামিউল হক!যিনি গান গায়,বাঁশী বাজায়,দোতরা বাঁজায়। মানুষের কাছে শুধু নিজের অসহায়ত্ব জাহির করে ভিক্ষা করতে চান না তিনি।জন্ম থেকে দৃষ্টি প্রতিবন্দি সামিউল হক কে প্রথম দেখেছি.২০০৯-১০ সালে গাজীপুর শিববাড়ি বাসস্ট্যান্ডে।তখন তার একজন সঙ্গী ছিল।একজন দোতরা বাজাতেন আর তিনি গান করতেন। তার গান তখনই মনে ধরে ছিল। তখন প্রায়ই মনে মনে বহু খুজেছি তাকে।

আজ আবার ২০১৮ তে পেলাম বাসে, বাঁশী বাদক সামিউল হক কে।বয়সের ভাড়ে এখন আর গলায় সুর আসেনা আর সঙ্গীটি ওনেই তার সাথে।তাই বাঁশী বাজিয়ে বাস যাত্রিদের আকৃষ্ট করে চলেছেন তিনি।আর তা নাহলে, সাধারন যে কোন প্রতিবন্দি সাহায্যপ্রার্থী মানুষের চেয়ে তার আয় বেশী বলে মনে হলো।আসলে এদেশের মানুষ এখনো যে কোন প্রতিভাধর মানুষের কদর করে।সামিউল হকের প্রতি মানুষের আবেগ দেখে তাই মনে হলো।

সামিউল হকের বসবাস গাজীপুর নগরের দিঘিরচালায়।এক মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে তার সংসার।মেয়ে ভাওয়াল বদরে আলম সরকারী কলেজের স্নাতক(পাস) কোর্সে পড়াশোনা করছে আর ছেলে চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনিতে পড়ছে।সামিউল হক জানায় তার মেয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি একটি কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে শিক্ষকতা করে এবংতার পাশাপাশিও  টিউশানি করে তার সাথে সংসারের খরচের যোগান দেন। বাবা মেয়ে মিলে পরিবারের এই সময়ের খরচ যোগাতে হিমসিম খেলেও সামিউল হক তার দুই সন্তানকে সুশিক্ষিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চান।বাবা হিসেবে সামিউল হক মনে করেন একজন পিতামাতার বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় আনন্দ হচ্ছে তার সুশিক্ষিত সন্তানদের এগিয়ে যাওয়া। একজন সামিউল হক তিনি দৃষ্টি প্রতিবন্দি হলেও তার ভেতরে আছে এক শিল্পীর স্বত্বা,তাই তিনি তার স্বত্বায় তার সন্তানদের দেখেন একজন শিল্পী পিতার মানসে।যেখানে তার দারিদ্রতা তাকে  দমাতে পারেনি এখন পর্যন্ত।