ঢাকা বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৬

নতুন গামছা!বাংলা নব বর্ষের পোশাক অনুষঙ্গ হিসেবে আবির্ভূত

বাঙালী মানুষের কাছে গামছা যেন এক সব কুল রক্ষা করা এক পোশাক।গামছা আমাদের ব্যাবহারের দিক দিয়ে কত প্রকার প্রয়োজনের সামাল দেয় তা বলে শেষ করা যাবে না।গামছা শুধু এখন আর গা মোছার কাপড় নয়। বাঙালী ফ্যাশনের  অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এই গামছা কে নিয়ে কাজ করছেন সেই নব্বই দশক থেকে।তার ফোকাছ ছিল উন্নতবিশ্বের দিকে।কিন্তু জনসংখার ব্যাপকতা সত্ত্বেও উন্ননশীল দেশ হতে থাকা এই দেশ এখন এক বিশাল বাজারে পরিনত।তাই উৎপাদন মুখি যেকোন দেশের  নজর এখন বাংলাদেশর দিকে।

দেশীয় সম্ভাবনার সকল শিল্প এখন অনেকটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এই গামছা এখন দেশে উৎপাদন করে দেশীয় বাজারে বিপণনের  চাহিদাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।বিশেষ আমাদের ধর্মীয় ও দেশীয় সকল উৎসবে গামছার ব্যাবহার বিশেষ মাত্রা যোগ করে চলেছে।তারপাশাপাশি আমাদের কৃষ্টি কালচারের পোশাক-আসাকের সাথে গামছার যোগসোগে বাড়িয়ে দেয় এক নতুন বাঙালীয়ানা।সাদা পাজামা পাঞ্জাবীর সাথে যে কোন রংয়ের গামছা কাঁধে বা কোমরে জড়িয়ে দিলে বাঙালী পুরুষ পায় বলিষ্ঠতা। আর বাঙালী নারীদের ক্ষেত্রে স্নান বা গোসল শেষে গামছায়  দিয়ে ভেজা ছুলের পানি শুকাতে খোপায় জড়িয়ে আর ব্যাবহার হয়ে থাকে। যার সুন্দর শোভা কেবল গামছার দ্বারাই সম্ভব। কবি নির্মূলেন্দু গুন  লিখেছিলেনঃ

“গ্রাম-বাংলার পুরুষ মাত্রই গামছাকে খুব ভালোবাসে,
তারা তাদের প্রিয় গামছাটিকে স্কন্ধে সাজিয়ে রাখে।
গরমের দিনে তারা গামছা দিয়ে শরীরের ঘাম মোছে,
নাকের সর্দি মোছে, শোকে-দুঃখে চোখের জল মোছে,
স্নান শেষে গা মোছে, কেউ মাটিতে সঙ্গমশয্যা পাতে।
গামছা ব্যতিত ঘর থেকে বেরুতে গেলেই তাদের পা
ঘরের চৌকাঠে আটকে যায়, ভুলে ওড়না ছাড়া ঘরের
বাইরে বেরুতে গেলে মেয়েদের বেলায় যেমনটি হয়।

বাংলার নারীরা পুরুষদের এই দুর্বলতার কথা জানে।
তারা পুরুষের গামছা পাহারা দেয়। তাতে কাজ হয়,
গামছার টানে অনেক সময়ই তারা ঘরে ফিরে আসে।
শুধু গামছার জন্যই আমি আমার গ্রামের বহু বহুগামী
পুরুষকে নির্দিষ্ট নারীর কাছে ফিরে আসতে দেখেছি।

আমি এমন এক নারীর কথা জানি, যে তার পলাতক
স্বামীর গামছাটিকে বেহুলার মতো আগলে রেখেছিল।
সে বিশ্বাস করতো, তার নিরুদ্দিষ্ট স্বামী একদিন এই
গামছার টানেই ঘরে ফিরে আসবে। তার বিশ্বাস ভুল
প্রমাণিত হলে সে হয়তো ঐ গামছাতেই ফাঁসি নিতো।
কিন্তু কথায় বলে, বিশ্বাসে মিলায় কৃষ্ণ তর্কে বহু দূর,
সবাইকে অবাক করে দিয়ে একদিন তার স্বামীরাজ
ফিরে এসে বললো: ‘কই, আমার গামছা কোথায়?’

মহানন্দে স্ত্রী স্বামীকে তার গামছাটি ফিরিয়ে দিলো।
সেদিন মহেন্দ্রলগ্নে স্বামীর সঙ্গে তার একজন সতীনও
ঘরে এসেছিল, ওটা বড়ো কথা নয়। গ্রামে এরকম হয়।
তবে গামছার গিটও যে কঠিন হয়, তা ভুক্তভোগী ঐ
স্বামীপ্রবরের মতো আর কে জানে? কী যতনা-বিষে
বুঝিবে সে কিসে কভু নারী-আশীবিষে দংশেনি যারে?
শহুরে মেয়েরা গামছার গুরুত্ব বোঝে না। গ্রাম থেকে
আসা শহুরে-বাবুরাও আজকাল খুবই চালাক হয়েছে;
ভৈরবের গামছা তারা ঘরেই রাখে না, তার পরিবর্তে
বুদ্ধিমানের মতো তারা ব্যবহার করে টার্কিশ টাওয়েল।”

যতই টাওয়েল আসুক আমাদের কাছে,গামছার ব্যবহার কিন্তু বেড়েই চলছে।আর ধীরে ধীরে গামছা আমাদের বাংলা নববর্ষের পোশাকের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে পড়ছে।যা আমাদের ইতিবাচক দিক।এই তো ১৪২৫ বঙ্গাব্দে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে শহরে গ্রামে নববর্ষের সকল কেনাকাটায় গামছা একটা বিরাট অংশ দখল করেছে।আসুনা আমারা এই গামছাকে নিয়ে আর একটু বাঙ্গালীয়ানায় মাতি।