ঢাকা মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০২৬

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও আমাদের বেকারত্ব 

 

বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যে ধরনের শিক্ষা ব্যাবস্থা চালু রয়েছে, তাতে আমাদের কর্মমুখী  প্রজন্ম তৈরি হতে কতটুকু সহায়ক ভূমিকা পালন করবে তা ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিগত দুই দশকেই শিক্ষা ব্যবস্থার  যে পরিক্ষামুলক সময় গিয়েছে তাতে আমরা যে বাস্তবতার সম্মুখীন হয়েছি এর দায় আমাদেরকেই বহন করতে হবে বহুদিন। প্রকৃত অর্থে আমাদের দেশে কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার যে ব্যাপক প্রয়োজন তাকে সামনে রেখে প্রতিটি জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। উন্নত কারিগরি প্রতিষ্ঠান কারণেই আমরা দেখতে পেয়েছি জাপান এবং চীন চরম উন্নতির  শিখরে পৌঁছেছে খুব সহজেই। পাশের দেশ ভারত তারাও ঠিক একই প্রক্রিয়ায় এগিয়েছে অনেক দূর। আমাদেরও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় যে পরিবর্তনের সূচনা দেখা দিয়েছিল মান নির্ণয় করার বিষয়টায় ইতিবাচক হিসেবে বলা যায়। তবে মাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার মান নিয়ে যথেষ্ট বলবার রয়েছে। এই বিষয়গুলোর প্রসঙ্গে কথার বলার দাবী রাখে। এই জন্যই শিক্ষা পরবর্তী কর্মসংস্থানের বিষয়টি  আজ আমাদের আগামী দিনগুলোকে শংঙ্কাময় করে তুলেছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্পটি  যদি বিলুপ্তির পথে হাটে তবে আমাদের ভবিষ্যৎ সংকট পূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এই পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশি আরও একটি শিল্প মাথা তুলে দাঁড়াবার চেষ্টা করছে  বহুদিন থেকে। তা হলো  পর্যটন শিল্প। এবং এই শিল্পের জড়িয়ে আছে বিপুল জনসংখ্যার।  আর  বিপুল এই দেশের জনসংখ্যা থেকে যদি ঠিক মতো প্রশিক্ষিত  শ্রমিক রপ্তানি হতো, তাহলে আমাদের দেশ এগিয়ে যেতে অনেক দূর। যেখানে ভারত পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা নেপালের শ্রমিকগণ মধ্যপ্রাচ্যে  শ্রম বাজারে যে শ্রমের মজুরি পায় তার থেকে বাংলাদেশের অভিজ্ঞ শ্রমিকগণ অনেক কম মূল্যে কাজ করতে বাধ্য হন। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিতে যদি কর্মমুখী অভিজ্ঞ  শ্রমিকদের শ্রম বাজারে পাঠানো যেত তাহলে দেশ আরো অনেক এগিয়ে যেত। বিশেষ করে সারা বিশ্বের পর্যটন শিল্পের শ্রম বাজারে বাংলাদেশের শ্রমিকগন স্বল্প মূল্যে কর্মী হওয়ার মূল কারণই হচ্ছে অনভিজ্ঞতা এবং ভাষা জ্ঞানহীনতা। এজন্য যদি বাংলাদেশের সরকার শ্রম রপ্তানিতে কর্মমুখি শিক্ষার দিকে জোড় দেয় বা সুনজর ক্ষেপণ করে,তাতে দেশের সমৃদ্ধি বয়ে আনবে দ্রুত। বাংলাদেশের যে কয়টি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেখানে কর্মমুখী কারিগরি বিষয়গুলোতে শিক্ষা প্রশিক্ষণের সহজতা তৈরি করলে দেশের পিছিয়ে পড়া মানুষগুলো উপকৃত হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত শ্রমিক তৈরি হওয়ার সুযোগ পাবে।তার পাশাপাশি বাংলাদেশের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষায় আরবি ভাষা শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করলে এদেশের একটি শ্রেণি মধ্যপ্রাচ্য তথা আরব বিশ্বের শ্রম বাজারে একটি সম্পদ হিসেবে পরিগণিত হবে।এইতো গেল বিদেশের শ্রমবাজার তথা পর্যটন শিল্পের বাজারের কথা।

বাংলাদেশের পর্যটন শিল্প যেভাবে পৃষ্ঠপোষকতাহীন ভাবে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের মতো গড়ে উঠেছে।  পৃষ্ঠপোষকতাহীন এই শিল্পগুলোর  ধারক বাহক শ্রমিক তথা ব্যবস্থাপনার কর্মীগণ সরকারি অথবা বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের সুযোগ লাভ করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এ দেশে বেকারত্ব সমস্যার কারণে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের থেকেও কম শ্রম মূল্যে পর্যটনশিল্পে নিযুক্ত হতে বাধ্য হন পর্যটন  কর্মীরা।এছাড়াও বাংলাদেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো পর্যটন শিল্পে কোন প্রকার বেতন কাঠামোর নির্দেশনা নেই। সেই অর্থে বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পের কর্মরত শ্রমিকদের পিতা-মাতা হীন সন্তান বললেও ভুল হবে না।  তাদের নেই কোন মূল্যায়ন নেই কোন কর্ম ঘন্টার নির্দেশনা।

আবার অন্য দিক থেকে দেখলেও দেখা যায় যে এদেশের কোথাও নেই পর্যটন শিল্পের কোন প্রকার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বাস্তবায়নের কর্ম প্রয়াস।এদেশের পর্যটন  শিল্পের উদ্যোক্তা হবার চেষ্টা করলে তারা নানা প্রকার সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তাদের আগ্রহী ক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে শহরকেন্দ্রিক বাস্তবতায় চাইনিজ পর্যটক বা শ্রমজীবীদের কাছে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা রীতিমতো নাজেহাল। যেখানে বাংলাদেশের কোন উদ্যোক্তা অন্য কোন দেশে পর্যটন শিল্পের অন্যতম মাধ্যম হোটেল গেস্ট হাউস নির্মাণে ব্যাপক বাঁধার সম্মুখীন হন। সেখানে বাংলাদেশে কোন প্রকার ঝামেলা ছাড়াই চাইনিজ নাগরিকগণ নির্বিঘ্নে বাড়ি ভাড়া করে হোটেল ব্যবসা করে। আমাদের  দেশিও উদ্যোক্তাদের যতটা ঝামেলা পোহাতে হয়। ঢাকা-চট্টগ্রাম সারা দেশের জেলা শহরগুলোতে চাইনিজ উদ্যোক্তাগন নির্বিঘ্নে বাড়ি ভাড়া করে হোটেল ব্যবসা করে।তারা তাদের জন্য চাইনিজ তত্ত্বাবধানে  অনেক হোটেল গেস্ট হাউজ রয়েছে।যেসব প্রতিষ্ঠান  বাংলাদেশের রাজস্ব  ফাঁকি দিচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশের পর্যটন উদ্যোক্তারা বিশেষ করে হোটেল গেস্ট হাউস  গণ রাজস্ব বোর্ডের কাছে নিয়মিত সহযোগিতা বঞ্চিত হন। চাইনিজ হোটেল গেস্ট হাউজ বা রেস্টুরেন্ট এর কাছে নিয়মিত রাজস্ব আদায় হলে বাংলাদেশ লাভবান হবে। এছাড়াও বিদেশি কোন প্রতিষ্ঠান যদি পর্যটন ব্যবসায় জড়িত হন তাহলে করে নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন ও প্রয়োজন। তার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কর্ম ঘণ্টা তথা মজুরি কাঠামো নির্ধারণ।