ঢাকা বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬

বিশ্ববরেণ্য মূকাভিনয় শিল্পী মার্সোর প্রয়াণ দিবসে বামূফের স্মরণ আয়োজন।

‘যতদিন মূকাভিনয় শিল্প থাকবে, ততদিন মার্সেল মার্সো প্রাসঙ্গিক থাকবেন’
‘মাস্টার অব মাইম’ খ্যাত বিশ্ববরেণ্য ফরাসি মূকাভিনয় শিল্পী মার্সেল মার্সোর ২০তম প্রয়াণদিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশানের আয়োজনে আলোচনা সভা ও মূকাভিনয় প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২২ সেপ্টেম্বার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মূকাভিনয় শিল্পের বিকাশ ও বিশ্বব্যাপী বিস্তারে মার্সেল মার্সোর অবদান অনস্বীকার্য। ভারতীয়  মহাদেশসহ বাংলাদেশে মূকাভিনয় চর্চাতেও তাঁর শিল্পভাবনা ও উপস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
বক্তারা বলেন, “প্রতিটি মূকাভিনয় আয়োজনেই মার্সেল মার্সো প্রাসঙ্গিক। একশ বছর পরেও, এমনকি যতদিন মূকাভিনয় শিল্প টিকে থাকবে, ততদিন মার্সো প্রাসঙ্গিক থাকবেন।”
আলোচনায় আরও বলা হয়, মূকাভিনয় শিল্পে বিশ্বজুড়ে মার্সোর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী। তাঁর সৃষ্ট বিখ্যাত চরিত্র ‘বিপ’ (Bip) এবং এর স্বাতন্ত্র্যপূর্ণ পোশাক ও মঞ্চ-উপস্থাপনাও বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের মূকাভিনয় চর্চায় উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছে। মার্সোকে অনুসরণ করে শিল্পীরা যেমন মূকাভিনয়ের ভাষা শিখেছেন, তেমনি তাঁর শিল্পভাবনাকে অতিক্রম করে নতুন সৃষ্টির পথও উন্মুক্ত হতে পারে।
বক্তারা বলেন, “মূকাভিনয় সহজ কোনো শিল্প নয়। দীর্ঘ অনুশীলন, শরীরের নিয়ন্ত্রণ, অভিব্যক্তি ও নান্দনিক বোধের সমন্বয়ে একজন শিল্পী এই শিল্পে দক্ষতা অর্জন করেন। প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রূপে নীরব অভিনয়ের চর্চা থাকলেও মার্সেল মার্সো আধুনিক মূকাভিনয়কে বিশ্বব্যাপী নতুন পরিচিতি দিয়েছেন। ‘মূকাভিনয়’ শব্দটি উচ্চারিত হলে আজও তাঁর অবয়ব আমাদের সামনে ভেসে ওঠে।”
বাংলাদেশে মূকাভিনয় শিল্পের চর্চা ও বিকাশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।শিল্পকলা একাডেমি পদকে মূকাভিনয়কে যুক্ত করার অনুরোধ জানান বক্তারা। তাঁরা বলেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রদর্শনী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতার প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশানের সভাপতি সোলেমান মেহেদী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফাদার তপন কামিলুস ডি রোজারিও; বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশানের সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদ রিপন; বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের, সহকারী পরিচালক ইমাম আব্দুল্লাহ হাকিম।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতাউত্তর বাংলাদেশের প্রথম মূকাভিনয় শিল্পী দেওয়ান মামুন।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশানের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম রুবেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফেডারেশানের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক তানজিম তাজওয়ার।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মূকাভিনয় প্রদর্শনী। সন্ধ্যা থেকে চলা এ আয়োজনে বাংলাদেশ মূকাভিনয় ফেডারেশানের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন মূকাভিনয় দল অংশগ্রহণ করে।
প্রদর্শনীতে অংশ নেয় প্যান্টোমাইম মুভমেন্ট, চট্টগ্রাম; দ্য মামার্স, ঢাকা; সাইলেন্ট থিয়েটার, চট্টগ্রাম; রঙ্গন মাইম একাডেমি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়; মাইম ফেইস, নারায়ণগঞ্জ; শাওন মাইম একাডেমি, ঢাকা এবং মূকবলাকা, ঢাকা।
একি সাথে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে স্বপ্নদলের প্রশংসিত মূকনাট্য ‘ম্যাকবেথ’-এর বিশেষ মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়। উইলিয়াম শেক্সপিয়রের রচনা অবলম্বনে জুয়েনা শবনমের কাহিনি পুনর্বিন্যাসে এবং ঐতিহ্যের ধারায় বাঙলা মূকাভিনয়রীতিতে নির্মিত ‘ম্যাকবেথ’-এর নির্দেশনা দিয়েছেন জাহিদ রিপন।
মার্সেল মার্সোর শিল্পদর্শন, মূকাভিনয়ের নান্দনিকতা এবং নীরবতার শক্তিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে আয়োজনটি তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বাংলাদেশে মূকাভিনয় শিল্পচর্চার ধারাবাহিকতা ও সম্ভাবনাকেও সামনে নিয়ে আসে।

আমাদের সাথে থাকুন