
গ্রীষ্মকালীন ফলের সমারোহে এবার আম,কাঁঠাল, লিচু আর আনারসের সাথে বাজারে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। তালের শাঁস বিক্রি করে ভালোই মুনাফা অর্জন করেছেন ব্যবসায়ীরা। বেশ কিছুদিন ধরে যেভাবে গরম পড়েছে, আর এই গরম থেকে রেহাই পেতে রাস্তার ধারে বা বাজারের মোড়ে প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে তালের শাঁস। ঠিক এমনই চিএ চোখে পড়েছে দেশের অন্যান্য জেলার মতো গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়।
এদিকে অল্প পুঁজিতে এই তালের শাঁস বিক্রি ব্যবসায় লাভের অঙ্কটাই বেশি। ভ্যাঁপসা গরমের হাত থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষ কিনছেন তালের শাঁস।
গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার তালের শাঁস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অল্প কয়েকদিনের এই ব্যবসায় পুঁজি খাটিয়ে লাভের অঙ্কটা বেশ ভালো। করোনা কালীন এই সময়ে সারা দেশে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে, প্রতিষ্ঠানের পাশে বসে এখন আর বিক্রি করা যায় না তালের শাঁস। আমরা যদি সেখানে বসে বিক্রি করতে পারতাম, তাহলে লাভের পরিমাণটাও আরো বেশি হতো। তাই তারা বাজারের বিভিন্ন মোড়ে বসেই বিক্রি করছেন তালের শাঁস।
তালের শাঁস ব্যবসায়ীরা আরো জানান, একটি তালগাছের তালের আটিঁ বা শাঁস ৩০০/৪০০ টাকা দিয়ে কেনেন। আর প্রতিটি তাল গাছেই ২০০টিরও অধিক কচিঁ তাল পাওয়া যায়। গাছ থেকে তালগুলো নামিয়ে তারপরেই বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসেন ব্যবসায়ীরা।
সাধারণত একটি কচিঁ তালে শাঁস থাকে তিনটি। একটি তাল অর্থাৎ ৩টি শাঁস তারা বিক্রি করছেন ১০/১৫ টাকা। ফলে গাছ থেকে পাড়ার সময় একটি কচিঁ তালের দাম পড়েছে দুই টাকা। আর সেই তালের শাঁস তারা বিক্রি করছেন ১০/১৫ টাকা দিয়ে। ফলে প্রতিটি কচিঁ তাল বিক্রি করে তাদের লাভ হচ্ছে ৮ টাকা বা তারও বেশি। একজন তালের শাঁস বিক্রেতা প্রতিদিন ৩০০ টি বা তারও অধিক তাল বিক্রি করতে পারেন। ফলে দিনশেষে একজন বিক্রেতার লাভের পরিমান গিয়ে দাড়াঁয় ১ হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি। এই ব্যবসায় অল্প সময়ে লাভের পরিমাণ বেশি হওয়ায় এই করোনা কালীন সময়ে তালের শাঁস বিক্রির ব্যবসায় নেমে পড়েছেন অনেক বেকার যুবক।
কাপাসিয়া উপজেলার টোক, রায়েদ, আড়াল, রানীগঞ্জ, সনমানিয়া,বারিষাব,সিংগুয়া, ঘাগটিয়া চালা এবং খিরাটীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে এমনই চিএ লক্ষ্য করা গেছে।
এদিকে গাজীপুর সিটি এরিয়ার হাড়িনাল এলাকার দশম শ্রেনী পড়ুয়া যুবক মোঃ জুবায়ের হাসান জানায়,মহামারী করোনার এই সময়ে আমাদের স্কুল বন্ধ থাকায় আমি বেকার বসে না থেকে নেমে পড়ি তালের শাঁস বিক্রির ব্যবসায়।সে আরো জানায়,গাজীপুর অঞ্চলে এই তালের শাঁস কে আঞ্চলিক ভাষায় আষাড়ী বলা হয়। স্বল্প সময়ের এই ব্যবসাটা আমি প্রতিবছরই আমাদের পরিবার থেকে এই আষাড়ী ব্যবসা করে থাকি। তবে এটা একটা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসাও বটে। দেখা যায় অনেক সময় তাল পাড়তে গিয়ে পড়ে গিয়ে হাত,পা ভেঙ্গে যায়। তারপরেও আমি এই ব্যবসা প্রতি বছরই করে থাকি কারণ, অল্প সময়ে লাভের পরিমাণটা বেশি।
অপরদিকে তালের শাঁস ক্রেতা সবুজ আহমেদ সোহান জানিয়েছেন, যেভাবে গরম পড়েছে তালের শাঁস খেলে অনেক উপকারীতা আছে। তালের শাঁস খাইলে শরীর ঠান্ডা থাকে এবং গরম থেকে তেষ্টা মেটায়। ১০/১৫ টাকার মধ্যেই ৩টি তালের শাঁস পাওয়া যাচ্ছে, তাই তারা অন্যান্য ফলের তুলনায় তালের শাঁসই খাচ্ছেন।