ঢাকা বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

স্বর্গে গিয়ে ধান বানার ঢেঁকি আর এখন নেই

কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।ঢেঁকি এখন আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।গ্রাম বাংলায়  এখন আর নবান্ন উৎসব, পৌষ পার্বন অনুষ্ঠানে ঢেঁকিতে ধান ও চাল ভাঙ্গা শোনা যায় না। এক সময় বাংলার প্রত্যন্ত গ্রাম অঞ্চলে প্রতিটি পরিবারেই ধান ভাঙ্গতে ঢেঁকির প্রচলন ছিল। পরিবারের নারীরা ধান, গম, ভুট্টা, চালসহ বিভিন্ন শস্য ভাঙ্গার কাজ ঢেঁকিতেই করত। শব-ই-বরাত, শব-ই- কদর , ঈদ, পূজা, নবান্ন উৎসব পৌষ পার্বনসহ বিশেষ বিশেষ অনুষ্ঠানে পিঠা-পুলি খাওয়ার জন্য অধিকাংশ বাড়িতে ঢেঁকিতে চাল ভাঙ্গার ধুম পরে যেত। গ্রামের বধূদের ধান ভাঙ্গার গান আর ঢেঁকির ছন্দময় শব্দে চারিদিকে হৈ চৈ পরে যেত। দরিদ্র নারীরা চাল কিংবা টাকার বিনিময়ে ঢেঁকিতে আটা ও ধান ভাঙ্গিয়ে দিত । দারিদ্র পরিবারের অনেকেই ঢেঁকিতে চাল ভাঙ্গিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে যান্ত্রিকী করণের ফলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে । গ্রামগঞ্জে এখনো দুই একটি বাড়িতে ঢেঁকি দেখা গেলেও ঢেঁকির প্রচলন নেই ।গ্রামীন এলাকায় ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গার ব্যাপক প্রচলন ছিল।ঢেঁকি ছাটা চালে হতো বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন।গভীর রাতে ঢেঁকিতে ধান ভাঙ্গার শব্দ শোনা যেত। কিন্তু কালের বিবর্তন ও সময়ের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক যন্ত্রপাতির আবির্ভাব হওয়াই ঢেঁকি হারিয়ে গেছে। তবুও ঢেঁকি ছাটা চাল,চিড়া,আটার কদর এখনো প্রবীন মানুষের মনে মনে।তাদের সোনালি দিনের স্মৃতিতে ঢেঁকি একটি অধ্যায় হয়ে আছে।তার পরও কেউ কেউ প্রত্যন্ত অঞ্চলের দু একটি বাড়িতে এখনো ঢেঁকি রেখে দিয়েছে।যা আজ কেবল কালের সাক্ষী ভন করে চলছে।