ঢাকা বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

পর্যটনের কিছু ভালো খবর

সুপ্রিয় ফেসবুক বন্ধুরা, আশাকরি সবাই ভালো। বছরের প্রথম দিন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি)-এর সদস্য হওয়ার পর পরই আপনাদের বলেছিলাম দায়িত্ব বেড়ে গেলো, সবাই দোয়া করবেন। তারপর থেকে আপনারাও আপনাদের প্রত্যাশার কথা আমাকে সময় সময় জানিয়ে আসছেন। আমিও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে আমার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই যখনই যা কিছু অগ্রগতি হচ্ছে বা কোন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে তা আপনাদেরকে ফেসবুকে এবং ব্লগে সাথে সাথে জানিয়ে আসছি। এজন্য আপনাদের স্বতস্ফুর্ততা আর সহযোগীতা আমাকে দারুণ অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আজ আপনাদের জন্য পর্যটনের কিছু ভালো খবর নিয়ে এসেছি।

তবে, এই ভালো খবরের জন্য ঘাম ঝরাতে হয়েছে এবং দেনদরবারও করতে হয়েছে অনেকটা। কেন না বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড-এর বাৎসরিক কর্মপরিকল্পনা ও খাত ওয়ারি অর্থ বরাদ্দের অনুমোদন চুড়ান্তকরণ প্রক্রিয়াটি আমার আপত্তির কারণে স্থগিত করতে হয়েছে। আর এজন্য তা আবার পুনঃবিবেচনার প্রক্রিয়ায় যেতে হয়েছে এবং এই কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভূক্ত করার জন্য আমার উত্তাপিত ছয়টি দাবীর সব কয়টিই যুক্তিসঙ্গত প্রমাণিত হওয়ায় তা গৃহীতও হয়েছে। তার মধ্যে দুটি দাবী সাময়িকভাবে অপেক্ষমান রাখা হয়েছে কিছু টেকনিক্যাল কারণে। বাকী চারটি দাবী কর্মপরিকল্পনার অন্তর্ভূক্ত করা হয়ছে এবং এগুলোর অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ায় শুরু হওয়াটা অন্তত নিশ্চিত হয়েছে। এজন্য মাননীয় মন্ত্রী, সচিব এবং বোর্ডের সকল সম্মানীত সদস্যকে জানাই ধন্যবাদ। তাহলে আসুন এবার দেখা যাক এই চারটি দাবী কী কী যা পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্য একান্ত জরুরী।

০১। কোয়ালিটি ট্যুরিজম সার্ভিস (QTS) বা মান-সম্পন্ন পর্যটন সেবাঃ
পর্যটন শতভাগ সেবা নির্ভর একটি শিল্প। যেখানে সেবাই হচ্ছে এই শিল্পের মূল এবং আয়ের উৎস সেখানে এই সেবার গুনগত মান নিশ্চিত করা যে একটি প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। যা প্রতিটি দেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করে থাকে। অথচ আমরা বহু বছর ধরে দাবী জানিয়ে এটিকে পর্যটন নীতিমালার অন্তর্ভূক্ত করানোর পরও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন তথা শুরুর কাজটিও করাতে পারছিলাম না। এবার অন্তত শুরুটা হবে এবং চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে চলতে থাকবে।

০২। ট্যুরিজম রিসার্স (Tourism Research) বা পর্যটন গবেষণাঃ
পর্যটন একক বৃহৎ শিল্প এবং এর পরিধি ব্যাপক ও বিস্তৃত। তাই একটি বহুমাত্রিক শিল্প হিসেবে এর গবেষণা কাজ এতই গুরুত্বপূর্ণ যে, বলা হয় যে দেশের পর্যটন গবেষণা যত উন্নত সে দেশের পর্যটন তত উন্নত। কারণ, এই গবেষনা কাজই বলে দেয় কোনটি সঠিক আর কোনটি বেটিক। তাই এর উপর ভিত্তি করেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় কি করণীয় আর কি বর্জনীয়। কিংবা কি করতে হবে এবং কিভাবে করতে হবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমরা এতই উদাসীন যে, অনেক কষ্টে পুথিতে লিপিবদ্ধ করানোর পরও তা বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারছেনা বহু বছর ধরে। এবার অন্তত সেই শুরু করার সমস্যাটা দূর হবে বলে আশা করা যায়।

০৩। ন্যাশনাল ট্যুরিজম ডাটা বেস (NTDB) বা জাতীয় পর্যটন তথ্য ভাণ্ডারঃ
পর্যটনের রয়েছে বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা, সেবা-পরিসেবা, পণ্য ভাণ্ডার, জঠিল বিপণন, প্রচার-প্রচারণা, শিক্ষা ও গবেষণা, ব্যাপক কর্মযজ্ঞ,‌ বহু পক্ষ এবং সর্বোপরি বিশাল জন-সম্পৃক্ততা। তাই সার্বিকভাবে এই শিল্পের ব্যাপকতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার মাধ্যমে উন্নয়নের প্রক্রিয়ায় রাখার জন্য সর্ববিষয়ে এমনকি সার্বক্ষণীকভাবে নানা তথ্য-উপাত্ত হালনাগাদ রাখা অরিহার্য্য। যার উপর নির্ভর করে ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক, লেখক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নীতি-নির্ধারণী কতৃপক্ষ, পরিকল্পনাকারী ইত্যাদি সকলকে এমনকি একজন পর্যটককেও তার সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অথচ পর্যটনের সূচনা লগ্ন থেকে আমরা এই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি শুধু পুথিতে লিপিবদ্ধ করে কিংবা গলাবাজি করেই দায় সারছি। তবে, এবার অন্তত কাজটি শুরু হওয়ার সম্ভাবনা জাগলো।

০৪। রেসপনসিবল ট্যুরিজম (Responsible Tourism) বা দায়িত্বশীল পর্যটনঃ
টেকসই পর্যটন উন্নয়নের জন্য ‘দায়িত্বশীল পর্যটন’ একান্ত অপরিহার্য। কারণ, পর্যটনের সাথে সম্পৃক্ত পক্ষগুলো যদি তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে তাহলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়না । তাই, ২০০২ সালের কেপ টাউন ঘোষণার পর থেকে পর্যটন উন্নয়ন প্রত্যাশী দেশ সমূহ বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে ‘দায়িত্বশীল পর্যটন’ চর্চার ব্যাপারে অধিক মনযোগী হয়ে তা চর্চা করছে। অথচ আমাদের দেশে তা এখনো সভার আয়োজন, লেখালেখি আর আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে এই কিছুদিন আগেও এই বিষয়টি নিয়ে ‘বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড’ আয়োজিত এমন একটি সভাকে কেন্দ্র করে কি ঘটেছিল যা নিয়ে আমি “দায়িত্বশীল পর্যটন নিয়ে দায়িত্বহীন কাজকারবার” শীরোনামে একটা পোষ্টও দিয়েছিলাম। তারপরও বোর্ড কতৃপক্ষের টনক নড়েনি এবং তা শুরু করার কোন উদ্যেগ নেয়নি। যেজন্য আমি শেষ পর্যন্ত এর পিছন থেকে সরিনি এবং একটা সুরাহা করাতে পেরেছি। তাই এবার এটি শুরু হওয়াটা অন্তত নিশ্চিত হলো, ইনশাল্লাহ।

যাহোক, আশাকরি বহু বছরের জমে থাকা সমস্যাগুলোর মধ্য থেকে অন্তত কয়েকটি এবার বেরিয়ে আসতে পারলো। আর আমিও এই খবরটি আমার ফেসবুক বন্ধুদের সাথে যথারীতি শেয়ার করতে পারলাম। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন এবং সব সময় সুস্থ চিন্তা করুন।

জামিউল আহমেদ (জামিল)
সদস্য – বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড (বিটিবি);
চেয়ারম্যান – ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট ষ্ট্যান্ডিং কমিটি (এফ বি সি সি আই);
বিদায়ী চেয়ারম্যান ও উপদেষ্ঠা – ট্যুরিজম ডেভেলপার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিডাব);
প্রাক্তন চেয়ারম্যান – সাউথ এশিয়া ট্যুরিজম এসোসিয়েশন (সাটা)।