ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া ব্যাস্ততাকে খুঁজে ফিরছে জয়দেবপুর রেল স্টেশন

১৯৯৮ সালে ঢাকার সাথে উত্তর বঙ্গের সাথে সরাসরি রেল যোগাযোগের সুচনা হলে জয়দেবপুর রেল স্টেশন জয়দেবপুর জংশনে রূপান্তরিত হয়। জয়দেবপুর রেল জংশন হবার পর থেকে গাজীপুর সারাদেশের রেল যোগাযোগের এক অন্যতম গুরুত্ব বহনকারি ষ্টেশন।এছাড়াও ঢাকা – গাজিপুরের দূরত্ব সড়ক আর রেল যোগাযোগ বিবেচনায় চাকুরীজীবীদের তত্থা পেশাজীবিদের বসবাসের সহজ সাধ্য এলাকা হচ্ছে গাজীপুর। কিন্তু বর্তমানে করোনা মহামারীর কারনে সারা দেশের ন্যায় ঢাকা-গাজীপুরের জীবন জীবিকায় লেগেছে পরিবর্তনের ব্যাপক ছোঁয়া। আর অন্যদিকে জয়দেবপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেন যোগাযোগ সাময়িক বন্ধ করায় ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী কর্মজীবী গাজিপুরে বসাবাসকারী মানুষ কে গুনতে হচ্ছে বড় অর্থের দন্ড।একদিকে করোনার ঝুঁকি নিয়ে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন উপায়ে ছুটে যেতে হচ্ছে কর্মস্থলে।সেই সাথে সীমিত আয়ের মানুষ গুলো আয় ব্যায়ের হিসেব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গাজীপুর থেকে ঢাকার মতিঝিলে নিয়মিত একটি বেসরকারি অফিস করা বশির আহম্মেদ জানান, করোনা শুরু হবার পর থেকে আমাদের বেতন শতকরা ৪০ ভাগ কমিয়ে দিয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠান।এখন সব কিছু খুলে দেবার পর আমাদের যাতায়াত ভাড়া গুনতে হচ্ছে দিগুণেরও বেশী।জানি না এভাবে কতদিন চালিয়ে যাতে পারবো। ঢাকার শাজাহানপুর থেকে গাজীপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আসা নিজাম উদ্দিন জানায় রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাবা মাকে ছেড়ে গাজিপুর শহরের হাড়িনালে বাসা নিতে হয়েছে।
অন্যদিকে রেল স্টেশন কেন্দ্রিক পেশাজীবীদের জীবনে নেমে এসেছে চরম অভাব অনটন। রেল জংশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সাধারন কুলি,মুজুর, হকার, ও ভিক্ষুকদের একটি বড় এখন চরম হতাশায় নিমজ্জিত। দিন আনা দিনে খাওয়া এই মানুষগুলোর বড় একটি অংশ তাদের পেশা পরিবর্তন করে উভয় সংকটে পড়েছে।রেল স্টেশনে ছোলা বুট বিক্তেতা আবুল হাশেম এখন কাঁচা মরিচ বিক্রেতা। কিন্তু শহরের মানুষ কমে যাওয়ার কারনে এক ভ্যান মরিচ বিক্রিতে মধ্যরাত হয়ে যায়। আর রাতে গার্মেন্টস শ্রমিক ছাড়া অন্য কোন পেশার ক্রেতা পাওয়া যায় না।
জয়দেবপুর রেল স্টেশন থেকে ঢাকা কমলাপুর পর্যন্ত ভিক্ষা করতো অন্ধ মনির ,সে জানায় দুঃখের কথা বলে কোন লাভ নাই,আমরা দিন ভিখারিরা করোনা শুরুর পর তিন বার সাহায্য পেয়েছি।এখন আর পাই না।মহল্লায় মহল্লায় ঘুরে ঘুরে ট্রেনের একবেলার যে আয় করা যেত সেটা দুইতিন দিনে আয় করতে হয়।


জয়দেবপুর রেল জংশনে গিয়ে স্টেশন মাস্টারের অফিস কক্ষে দুপরের সময় গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি।  ঘুমিয়ে অলস সময় পার করছে অনন্য কর্মচারী বৃন্দ। গাজীপুর থেকে ঢাকায় সহজলভ্য ও স্ব্লপ সময়ে যাতায়াতকারি পেশাজীবী মানুষেরা আর এই রেল স্টেশনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষেরা আশায় আছে ,রেল যোগাযোগ আবার দ্রুত স্বাভাবিক ভাবে ফিরে আসবে আর দেখা যাবে জয়দেবপুর রেল জংশনের চেনারুপ।