নিঝুম দ্বীপ বঙ্গোপসাগরের কোলো জেগে ওঠা এক নিঝুম অঞ্চল নিঝুম দ্বীপ। প্রথমে স্থানীয় জেলেরা দ্বীপটি আবিষ্কার করে। শীতকালে এখানে হাজার হাজার অতিথি পাখির সমাবেশ ঘটে। জেলেদের ধরা নানারকম মাছ শুকানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হিসেবে ব্যবহুত হতে থাকে। নিঝুম দ্বীপে ছয়টি বড় বাজার আছে। বাজারগুলিতে প্রধানত চাল-ডাল ও ঔষধের দোকান, মনোহারী সামগ্রীর দোকান ও কিছু খাবারের দোকান আছে। গোটা দ্বীপাঞ্চলে শুধু এই বাজারগুলিতেই জেনারেটর উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে আছে সৌর বিদ্যুৎ। বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগ নিঝুম দ্বীপে উপকূলীয় বনাঞ্চল গড়ে তুলেছে। এখানে বনবিভাগের একটি বাংলোও রয়েছে।এখানকার বন এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার চিত্রা হরিণ আছে। গাছগাছালির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গাছ কেওড়া, যা স্থানীয়ভাবে কেরফা নামে পরিচিত।
প্রায় ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেগে ওঠে। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের আগ পর্যন্ত কোনো লোকবসতি ছিলো না, তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিলো। বাংলাদেশের বনবিভাগ ৭০-এর দশকে বন বিভাগের কার্যক্রম শুরু করে। প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দের হরিণশুমারি অনুযায়ী হরিণের সংখ্যা ২২,০০০। নোনা পানিতে বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ। প্রায় ৯১ বর্গ কিমি আয়তনের নিঝুম দ্বীপে ৯টি গুচ্ছ গ্রাম রয়েছে। এই গুচ্ছ গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোটখাটো ঝুপড়ি ঘর। ১৯৯৬ সালের হিসাব অনুযায়ী নিঝুম দ্বীপ ৩৬৯৭০.৪৫৪ হেক্টর এলাকা জুড়ে অবস্থিত।
এই দ্বীপে রয়েছে প্রচুর হরিণ, যা বনবিভাগ দেখাশোনা করে। আগামীদিনে নিঝুম দ্বীপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকার নিঝুম দ্বীপের বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করেছে।নিঝুম দ্বীপে হরিণ এবং মহিষ ছাড়া অন্য কোনো হিংস্র প্রাণী নেই। হরিণের সংখ্যা প্রায় ২২,০০০ (প্রেক্ষাপট ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ)। নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। এছাড়াও শীতের মৌসুমে অজস্র প্রজাতির অতিথির পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয় নিঝুম দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপে বিশাল এলাকা পলিমাটির চর। জোয়ারের পানিতে ডুবে এবং ভাটা পড়লে শুঁকোয়। এই স্থানগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখিদের বসবাস। জোয়ারের পানিতে বয়ে আসা বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এদের একমাত্র খাবার। এখানে রয়েছে মারসৃপারি নামে একধরনের মাছ যাদেরকে উভচর প্রাণী বলা হয়। ৫ বছর পর্যন্ত বাঁচে এই মারসৃপার, ৬-৯ ইঞ্চি লম্বা হয়। বর্ষা মৌসুমে ইলিশের জন্য নিঝুম দ্বীপ বিখ্যাত। এই সময় ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকাররা নিঝুম দ্বীপে মাছ কিনতে আসে।। এছাড়া শীত কিংবা শীতের পরবর্তী মৌসুমে নিঝুম দ্বীপ চেঁউয়া মাছের জন্য বিখ্যাত। জেলেরা এই মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করেন।
| আয়তন | |
|---|---|
| • মোট | ১৬৩.৪৫ কিমি২ (৬৩.১১ বর্গমাইল) |
| • ভূমি | ৩৮.৬৫ কিমি২ (১৪.৯২ বর্গমাইল) |
| • পানি | ১২৪.৮১ কিমি২ (৪৮.১৯ বর্গমাইল) |
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন হাতিয়ার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য অবকাশ পর্যটন নির্মাণ করেছে বন বিভাগের বাংলো ছাড়াও নিঝুম রিসোর্ট এবং নামার বাজার মসজিদ কতৃপক্ষ নির্মাণ করেছে মসজিদ বোর্ডিং।অন্যান্য অঞ্চলের সাথে যোগাযোগ করতে হলে জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করতে হয় নিঝুম দ্বীপের মানুষদের। হাতিয়া, ভোলা কিংবা ঢাকার সাথে যোগাযোগ করতে হলে তাদেরকে পুরোপুরি জোয়ার ভাটা মেনে চলতে হয়। ঢাকায় যেতে হলে তাদেরকে সকাল ৯ টার (জোয়ার আসার)পর হাতিয়ার উদ্দেশ্য যাত্রা করতে হয়। প্রায় ২-৩ ঘণ্টা সময় পর ট্রলার হাতিয়া পৌঁছায়। অতঃপর পাওয়া যায় ঢাকাগামী লঞ্চ, যেটি প্রতিদিন একবেলা ঢাকার উদ্দ্যেশ্যে যাত্রা করে। এই লঞ্চটি বরিশাল এবং ভোলা হয়ে ঢাকায় পৌঁছায় বিধায় নিঝুম দ্বীপের মানুষজন ভোলা কিংবা বরিশালে যেতে পারেন এই লঞ্চে করেই। এছাড়া হাতিয়া কিংবা ঢাকায় আসার জন্য রয়েছে বিকল্প পথ। বন্দরটিলা থেকে নদী পার হয়ে হাতিয়ায় পৌঁছতে হয়। সেখান থেকে বিভিন্ন যানবাহন পার করে প্রথমে হাতিয়া শহরে তারপর লঞ্চে পার হয়ে মাইজদি অতঃপর ঢাকায় পৌঁছতে হয়।
১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপের শতকরা ৯৫ জন লোক মারা যায়। তবে ৯১ এর পর এখানকার কোনো লোক সাপের কামড়েও মারা যায়নি। অবশ্য বিরুপ আবহাওয়ায় গভীর সমুদ্রে জেলেদের নৌকাডুবির কিছু ঘটনা রয়েছে। যদিও আশংকা করা হয় যে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের কিছু অংশ যদি ডুবে যায় তাহলে নিঝুম দ্বীপ সে আওতায় পড়বে। তবে বাস্তবতা হলো নিঝুম দ্বীপের অদূরে বদনার চর এর পাশে গড়ে উঠছে আরেক বাংলাদেশ। ভাটির সময় জেগে উঠে বিশাল ভূমি। ধারণা করা হয় এর আয়তান ৬০ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে। সাম্প্রতিক কালে সরকার চেঙ্গারচরে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসার রোহিঙ্গাদের পূর্নবাসন করার উদ্যোগ নিয়েছে।
কেন যাবেন নিঝুম দ্বীপে
এখানে আপনি একই সাথে পাবেন বন, সমুদ্র এবং দ্বীপ তিন ধরনের ল্যান্ড স্কেপ। আপনি সেন্টমার্টিন দ্বীপের মতো অনুভূতি পাবেন কারণ এটা চারদিক সমুদ্রবেষ্টিত। (এখানে শুধু প্রবাল পাথর নেই) আপনি সুন্দরবনের ফিলিংস পাবেন কারণ এখানে ম্যানগ্রোভ বন ও প্রচুর হরিণ দেখা যায় (তবে রয়েল বেঙ্গল টাইগার নেই) এখানে ঢাকা থেকে আপনার পথ কমে যাবে সেন্টমার্টিন দ্বীপের অর্ধেক। তবে সময় কমবেনা। ক্যাম্পিং হতে পারে খুব মজার একটা আইডিয়া। আপনাকে ক্যাম্পিং এর জন্যে স্থান নির্বাচনে তেমন চিন্তা ভাবনা করতে হবে। পুরো দ্বীপেই প্রায় সব জায়গায় আপনি ক্যাম্পিং করতে পারেন চাইলে। যতটুকু জানি নিরাপদই দ্বীপে ক্যাম্পিং করা স্থানীয়দের সাথে কথা বলে তাই মনে হয়েছে।
জেনে রাখা ভালো।
শুধুমাত্র রবি এবং গ্রামীনফোন এর নেটওয়ার্ক পাবেন। আমি কাউকে জিজ্ঞেস করি নাই তাই বোকার মত ধরা খেয়েছিলাম আমার ফোনে নেটওয়ার্ক ছিল না। তাই যাবার আগে এই দিকে খেয়াল রাখা উচিত । বিদ্যুতের ঘাটতি আছে দ্বীপে শুধুমাত্র রাতে বাজারে সোলারে চার্জ দিতে পারবেন। তাই পাওয়ার ব্যাংক নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
মোটর সাইকেল ওয়ালারা নিঝুম দ্বীপে নামার সাথে সাথে ঘিরে ধরে , ভুলেও এদের নিয়ে কোন হোটেলে যাওয়া উচিত না। একসময় নিঝুম দ্বীপের মানুষের সেবা ও উপকারী মানসিকতা এখন দেখা যায়না। পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা পর্যটন বিকশিত হলে যখন বাইরের মানুষ আসতে শুরু করে তখন স্থানীয় লোকেরা টাকা কামাইয়ের ধাণ্ধা করে।
কিভাবে যাবেন?
কয়েকভাবে নিঝুম দ্বীপে যেতে পারেন। ঢাকা থেকে লঞ্চে চড়ে সদরঘাট থেকে সোজা চলে যাবেন হাতিয়া। হাতিয়া থেকে বোট বা ট্রলারে যেতে পারে নিঝুম দ্বীপ বন্দরটিলা। বন্দরটিলা হলো নিঝুম দ্বীপের প্রধান সৈকত। এডভেঞ্চার প্রিয় লোকদের জন্য হাতিয়া দিয়ে গাড়িতে চলে দ্বীপের শেষ মাথায় চলে গেলে সেখান থেকে সামুদ্রিক অংশ নদীর মতো নৌকা পার হয়ে উঠতে হবে নিঝুম দ্বীপে। তারপর দ্বীপের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত নৌকা, ট্রলার, রিকসা, ভ্যান বা হেঁটে পার হওয়া যাবে।
এছাড়া বাসে চড়ে নোয়াখালী, মাইজদি বা সোনাপুর যেতে পারেন। সেখান থেকে সিএনজিতে যেতে হবে ঘাটে। ঘাট থেকে নৌকা স্প্রিড বোট বা ট্রলারে চড়ে হাতিয়া হয়ে বা সরাসরি যেতে পারেন নিঝুম দ্বীপ। তবে সকালা আটটার মধ্যে পৌছায়ে যেতে পারলে যেতে পারবেন সী ট্রাকে। সী ট্রাকে উঠে হাতিয়া হয়ে নিঝুম দ্বীপ।
ঢাকার মহাখালী, কমলাপুর ও সায়েদাবাদ থেকে এশিয়া লাইন, এশিয়া ক্লাসিক, একুশে এক্সপ্রেস ও হিমাচল এক্সপ্রেসের চলাচল করে নোয়াখালীর সোনাপুর রুটে। ভাড়া পড়বে ৩৫০-৪৫০ টাকার মধ্যে। বাসে সোনাপুর নেমে সিএনজি অটোরিকশায় করে চলে যান চেয়ারম্যান ঘাট। ভাড়া গুনতে হবে ১০০ টাকা।
এরপর ট্রলারে চড়ে যেতে হবে নলচিরা ঘাটে। জনপ্রতি ভাড়া ১৫০ টাকা। সেখান থেকে আবারও বাসে জাহাজমারা বাজার। জনপ্রতি ভাড়া দিতে হবে ৭০টাকা।
জাহাজমারা বাজার থেকে মোটর সাইকেলে মুক্তারিয়া ঘাট। ভাড়া পড়বে ৭০টাকা করে। সেখান থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নিঝুম দ্বীপ ঘাট। ভাড়া জনপ্রতি ১০টাকা।
এরপর আবারও ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে করে যেতে হবে নামার বাজারে (নিঝুম দ্বীপ)। সেজন্য আপনাকে ভাড়া দিতে হবে ৬০ টাকা।
নৌপথে যাতায়াত:
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন পানামা ও টিপু-৫ নামের লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশে ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। ভাড়া ডেক ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৭০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১২০০ টাকা এবং ভিআইপি ১৬০০ টাকা। সময়মতো লঞ্চ ছাড়লে এবং আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে হাতিয়া লঞ্চঘাটে পৌঁছবে।
পানামা লঞ্চের যোগাযোগ: ০১৭৪০৯৫১৭২০। এছাড়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকেও সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম থেকে একটি জাহাজ হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।
একটু আরামদায়ক ভ্রমন চাইলে ফেণী হয়েও যেতে পারেন। এক্ষেত্রে স্টারলাইণের এসি বাস সুবিধা পাবেন। আরেকটু বাড়তি সুবিধা চাইলে বসুরহাটের ড্রীমলাইন সার্ভিসের এসিবাস সেবা নিতে পারেন। বসুরহাট নেমে সিএনজিতে সোনাপুর হয়ে ঘাটে পৌছতে পারেন। এদিকে রাস্তাঘাট ভালো। সিএনজিও মিনিটে মিনিটে যাতায়াত করে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বেশ ভালো।
চট্টগ্রাম থেকে
বাংলাদেশের যে প্রান্ত থেকে নিঝুম দ্বীপ ভ্রমন করতে হলে ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা শুরু করলে প্রথমে তাকে সড়ক পথে নোয়াখালী হেড কোয়ার্টার মাইজদী সোনাপুর আসতে হবে। এখানে কিছু আবাসিক হোটেলও রয়েছে। সোনাপুর থেকে প্রতি আধা ঘন্টা পর পর বাস এবং বেবী টেক্সী পাওয়া যায়। সোনাপুর থেকে চরবাটা ৪নং স্টীমার ঘাট বয়ারচর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে প্রতি দিন সী-ট্রাক/ইঞ্জিল চালিত ট্রলার নলচির ঘাট, অথবা তমরুদ্দি ঘাট বা চরচেঙ্গোর ঘাটে পর্যন্ত চলাচল করে। সী ট্রাকে নদীপথে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। সী ট্রাকের ভাড়া ৫০ টাকা ও ৬৫ টাকা লাগবে। নলচিরা ঘাট থেকে বাসে অথবা বেবী টেক্সীতে হাতিয়া হেড কোয়ার্টার ওছখালী বাজারে আসতে হবে। নলচিরা থেকে ওছখালীর দূরত্ব ১৩ কিঃ মিঃ। ভাড়া প্রদান করতে হয় বাস ২০ টাকা,বেবী টেক্সী জনপ্রতি ৩০ টাকা।
অপর দিকে যারা চরচেঙ্গার সী ট্রাকে রওয়ানা হবেন তাদেরকে তমরুদ্দি ঘাটে এসে নামতে হবে। তমরুদ্দি ঘাট থেকে হাতিয়ার হেড কোয়ার্টার ওছখালীর দুরত্ব ৮ কিঃ মিঃ। বেবী অথবা রিক্সাতে আসা যাওয়া ভাড়া প্রতি রিক্সা ২০ টাকা প্রদান করতে হয়। সময় লাগে আধা ঘন্টা।
হাতিয়া ওছখালী হেড কোয়ার্টার থাকার ব্যবস্থা স্থানীয় রেস্ট হাউজ অথবা উপজেলা ডাক বাংলো, রেডক্রিসেন্ট সড়ক ও জনপথ এবং দ্বীপ উন্নয়ন সংস্থা উন্নতমানের রেস্ট হাউজ রয়েছে। আর পর্যটক ভ্রমণার্থীরা উঠতে পারেন সিঙ্গাপুর রেস্ট হাউজ/ তালুক রেস্ট হাউজ , হোটেল প্রিন্স এবং সালমা রেস্ট হাউজ। রেস্ট হাউজে অবস্থান করে পরদিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে হবে। ন্বপ্নের নিঝুম দ্বীপ যাওয়ার জন্য হাতিয়া হেড কোয়ার্টার হইতে নদী পথে তমরুদ্দি ঘাট হতে ইঞ্জিন চালিত ট্রলার যোগে নিঝুম দ্বীপ পর্যটন কেন্দ্র এবং বিনোদন স্পট যাওয়া যায়। পযর্টকগণ ইচ্ছা করলে তমরুদ্দি হতে বেবী টেক্সী ভাড়া করতে পারেন আসা যাওয়া ৪০০-৬০০ টাকা। বর্তমানে নিঝুম দ্বীপে সড়ক পথে নিরাপদে কম সময়ে কম টাকায় যাওয়া যায় বলে ভ্রমনার্থীরা এই পথেই বেশি চলাচল করছে।
নদীপথে ঢাকা থেকে :
ঢাকা সদরঘাট থেকে বিকাল ৫টার সময় আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত তিনতলা বিশিষ্ট লঞ্চ হাতিয়া তমরদ্দি ঘাটের উদ্দেশ্য যাত্রা করে পরের দিন সকাল সাড়ে ৮টায় পৌছে। ভাড়া নেয়া হয় সাধারণ যাত্রী ১৫০ টাকা, কেবিন যাত্রী ৪০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা বা তার চেয়ে কিছু কম বেশি হতে পারে। তমরদ্দি ঘাটা থেকে একই ধরনের আর একটি লঞ্চ দুপুর সাড়ে বারোটায় ঢাকার সদর ঘাটের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করে পরদিন ভোর পাচঁটায় পৌছে। যোগাযোগের জন্য মোবাইল:- ০১৭১১-৩৪৯২৫৭ (পনামা) এবং টিপু :- ০১৭১১-৩৪৮৮১৩।
লঞ্চে যেতে চাইলে ঢাকা থেকে হাতিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রতিদিন ১ টা লঞ্চ বরাদ্দ রয়েছে একটার নাম “এম.ভি ফারহান – ৩” অন্যটা “এম.ভি ফারহান – ৪”। দুইটা লঞ্চ রোটেশন পদ্ধতিতে ডেইলি ১ টা করে ছেড়ে যায়, প্রতিদিন বিকাল ৫.৩০ মিনিটে লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে যায়, লঞ্চ ১ মিনিট ও লেট করে না, আপনি দেরি করলেও কিন্ত লঞ্চ দেরি করে না তাই সাবধান। হাতিয়ার উদ্দেশ্যে সদরঘাট থেকে বিকেল সাড়ে ৫ টায় ছেড়ে যাওয়া লঞ্চ কালিগঞ্জ (মেহেন্দীগঞ্জ) – বিশ্বরোড (ভোলা) – দৌলত খাঁ (ভোলা) – মির্জাকালু – শরাশগঞ্জ – ভোলা তজুমুদ্দিন – মনপুরা (রামনেওয়াজ লঞ্চ ঘাট) হয়ে হাতিয়ার তমুরদ্দী ঘাটে সাধারণত পৌঁছায় পরদিন সকাল সাড়ে সাতটা থেকে নয়টার মধ্যে। নিঝুম দ্বীপ এ যেতে হলে নামতে হবে লাস্ট ঘাট হাতিয়ার তমুরদ্দী । আবার ঢাকায় ফেরত যাবার লঞ্চ ছাড়ে দুপুর সাড়ে ১২ টায়।
যোগাযোগঃ- এম.ভি ফারহান ৩- ০১৭৮৫৬৩০৩৬৬। এম.ভি ফারহান ৪- ০১৭৮৫৬৩০৩৬৮, ০১৭৮৫৬৩০৩৬৯, ০১৭৮৫৬৩০৩৭০।
ভাড়াঃ ডেকে ৩৫০ টাকা, আবার ২৫০ টাকা দিয়াও যাওয়া যায়। কেবিন সিঙ্গেল- ১২০০ টাকা, ডাবল কেবিন -২২০০ টাকা, ভিআইপি কেবিন -৩৫০০-৪০০০ টাকা।
তমুরদ্দী ঘাটে নেমে বেবি টেক্সিতে (৫০০-৬০০ টাকা) সরাসরি মোক্তারিয়া ঘাটে যেতে পারেন আবার সরাসরি মোটর সাইকেলযোগেও মোক্তারিয়া ঘাট এ যাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে ভাড়া দুই জন ৩০০ – ৩৫০ টাকা, দর দাম করে নেওয়াই ভাল। সেখান থেকে ট্রলারে ১০ মিনিট লাগবে নিঝুম দ্বীপের বন্দরটিলা ঘাটে ভাড়া জনপ্রতি ২০ টাকা করে । এরপর আপনি নামার বাজার থাকতে চাইলে ভ্যান/রিক্সা/মোটর সাইকেল এ যেতে হবে। ভাড়া দুইজন ৮০-১০০ টাকা মটরসাইকেলে । এছাড়া আপনি ট্রলার রিজার্ভ করে যেতে পারেন নিঝুম দ্বীপের নামার বাজার ভাড়া ট্রলার সাইজ অনুযায়ী ৩৫০০ থেকে ৫০০০ টাকার মত । সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ভাল ট্রলার নেওয়া উত্তম মাঝ নদীতে না হলে ধুকতে ধুকতে আপনার জার্নির বারটা বাজিয়ে ছাড়বে।
নদী পথে চট্টগ্রাম থেকে :
বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে সপ্তাহে তিন দিন B.I.W.T.A. এর স্টীমার এম আলাউদ্দিন, এম. ভি বার আউলিয়া এবং এম. বি মনিরুল হক হাতিয়া নলচিরা ঘাট পর্যন্ত চলাচল করে। এ সকল স্টীমার চট্টগ্রামর সদর ঘাট থেকে সকাল ৯টা যাত্রা শুরু করে একই দিন বিকাল ৪টায় নলচিরা ঘাট পোঁছে। হাতিয়া নলচিরা ঘাট থেকে পরদিন সকাল ৯টায় চট্টগ্রামের দিকে যাত্রা শুরু করে। বিকাল ৫টায় চট্টগ্রাম সদর ঘাট পৌঁছে। BIWTC ফোন নং:- ৬১৩৩৫৮, ৬১৭৯৭৬। বর্তমান চট্টগ্রাম হতে হাতিয়ার সাধারণ যাত্রী ভাড়া জনপ্রতি ১০৫টাকা, কেবিন প্রথম শ্রেণী ৬০০টাকা,দ্বিতীয় শ্রেণী ৩০০টাকা।
কোথায় থাকবেন
নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য অবকাশ পর্যটন নির্মাণ করেছে নিঝুম রিসোর্ট এবং নামার বাজার মসজিদ কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছে মসজিদ বোর্ডিং।
নিঝুম রিসোর্ট: এই রিসোর্টে ৯টি ডাবল ও ট্রিপল বেডের রুম এবং ৩টি ডরমিটরি রয়েছে যেখানে মোট ২২টি বেড রয়েছে। পুরো নিঝুম রিসোর্টে ৬০ জনেরও বেশি সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। নিঝুম রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের জন্য।
রিসোর্টের রুম ভাড়া: ২ বেডের (১টি বাথরুম) ডিলাক্স রুমের ভাড়া ১ হাজার টাকা। ৬ বেডের ফ্যামিলি রুমের (১টি চার বেডের রুম ও অন্যটি ২ বেডের রুম এবং ২টি বাথরুম) ভাড়া ২ হাজার টাকা। ১২ বেডের ডরমিটরির (৩টি বাথরুম) ভাড়া ২৪০০ টাকা এবং ৫ বেডের ডরমিটরির (২টি বাথরুম) ভাড়া ১২০০ টাকা। রুমে অতিরিক্ত কেউ থাকলে জনপ্রতি গুনতে হবে ১শ’ টাকা।
ঢাকায় যোগাযোগ: অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, আলহাজ শামসুদ্দিন ম্যানশন (৯ম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা। ফোন: ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯।
নিঝুম রিসোর্টে যোগাযোগ: ইনচার্জ, নিঝুম রিসোর্ট, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোন: ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪।
নিঝুম রিসোর্ট (অবকাশ হোটেল) নামার বাজারঃ অবকাশ পর্যটন লিমিটেড এর একটা রিসোর্ট হল নিঝুম রিসোর্ট যা নামার বাজার সী বীচ এর কাছে অবস্থিত। নিঝুম রিসোর্ট থাকার জন্য একটি ভালো মানের রিসোর্ট। ভাড়াঃ ২ বেড এর VIP রুমের ভাড়া ২০০০ টাকা , ২ বেড এর Executive রুমের ভাড়া ১৫০০ টাকা, ৩ বেড এর Executive রুম ভাড়া ১৮০০ টাকা, ৪ বেডের Executive রুম ভাড়া ২০০০ টাকা, আর ৫ বেড এর ফ্যামিলি রুমের ভাড়া হল ৩০০০ টাকা এবং ৫ বেড এর ডরমেটরি রুম ভাড়া ১৮০০ টাকা ও ১২ বেড এর ডরমেটরি রুম ভাড়া ৩০০০ টাকা। ডরমেটরি রুমে অতিরিক্ত প্রতি জন থাকলে ২০০ টাকা করে দিতে হবে। প্রতিটিতে এটাচ ওয়াশরুম আছে। দুপুর ১২ টার আগে চেক আউট করতে হবে। অফ সিজনে রুম ভাড়ায় ৫০% ডিসকাউন্ট পাওয়া যায় ( এপ্রিল ১৫- সেপ্টেম্বর ৩০ )।
যোগাযোগঃ ঢাকা অফিসঃ অবকাশ পর্যটন লি., আলহাজ সামসুদ্দিন ম্যানসন (নবম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা। ফোন : ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯। নিঝুম দ্বীপ অফিসঃ সবুজঃ ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪, ০১৮৪৫৫৫৮৮৯৯ , ০১৭৩৮২৩০৬৫৫
২. মসজিদ বোর্ডিং, নামার বাজারঃ এটা থাকার ব্যবস্থার মধ্যে সবচেয়ে সস্তা । স্থানীয় মসজিদ থেকে এই ব্যবস্থা করেছে, দুইটা সিঙ্গেল এবং দুইটা ডবল রুম আছে, আর সব ডরমেটরি । ডরমেটরি – ভাড়া ২০০ – ৩০০ টাকার মত । এই বোর্ডিং-এ কোনো এটাচ বাথরুম এবং জেনারটরের ব্যবস্থা নাই। ২টি কমন বাথরুম এবং একটি টিউবওয়েল আছে।
হোটেল শাহিন, নামার বাজারঃ এই হোটেলটি নতুন। ১০০০ টাকার রুমের ভাড়া ২৫০০ টাকা চাবে। যাই হোক ফোন নম্বরঃ ০১৮৬৩১৫০৮৮১
এই বোর্ডিং-এ থাকার জন্য বুকিং করতে যোগাযোগঃ মোঃ আব্দুল হামিদ জসিম, কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, নামার বাজার, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোনঃ ০১৭২৭-৯৫৮৮৭৯।
হোটেল দ্বীপ সম্পদ নামার বাজারঃ ফোনঃ ০১৭২০ ৬০১ ০২৬, ০১৭৬০ ০০৮১০৬। (সৈয়দ চাচার থাকা এবং খাওয়ার হোটেল)
নিঝুম ড্রিম ল্যান্ড রিসোর্ট, বন্দরটিলাঃ নতুন খোলা এই রিসোর্টের পরিবেশ ভালোই।
যোগাযোগঃ ঢাকা বুকিং অফিসঃ০১৮৪৭১২৩৫৭৩ নিঝুমদ্বীপ বুকিং অফিসঃ০১৮৪৭১২৩৫৭২
আপনার ভ্রমণকে নিরাপদ ও আনন্দময় করতে আপনার পাশে রয়েছে চলবে ডট কম। আপনি দেশের যেকোনো জায়গায় ভ্রমণের জন্য চলবে ডট কম এর সেবা নিতে পারেন। বিমান টিকেট, বাস টিকেট, ট্রেন টিকেট, লঞ্চ টিকেট, হোটেল বুকিং ও মোবাইলে অনলাইনে ফ্লেক্সিলোড, টপআপ, রিলোড, ইফিল, রিফিল, রিচার্জ করার জন্য অবশ্যই আসুন www.cholbe.com এ। চলবে ডট কম এর কাস্টমার কেয়ার নাম্বারে যোগাযোগ করুন যেকোনো সেবা পেতে। ফোন: 01709 962797। বিমানের টিকেট ছাড়াও ট্যুরিস্ট ভিসা প্রসেস ও ট্যুর অপারেট করার জন্য চলবে ডট কম বিশ্বস্ত নাম। আপনি চলবে.কম এর সাথে যোগাযোগ করতে যুক্ত থাকুন ফেসবুকে পেজের সাথে https://www.facebook.com/CholbeTeam. নিঝুম দ্বীপ ও সেন্টমার্টিন এবং মহেশখালি দ্বীপ যেতে জাহাজের টিকেট এর জন্য আমাদের সেবা নিন।
থাকার বিকল্প ব্যবস্থা
| জেলা পরিষদের নির্মিত ডাকবাংলো বর্তমান নিঝুম দ্বীপ রিসোর্ট সেন্টার নামে পরিচিত | প্রকার ভেদে রুম ভাড়া ২০০-৮০০ টাকা প্রদান করতে হয়। | ৫০/৬০ জন পর্যটক থাকার ব্যবস্থা আছে | |
| বন বিভাগের রেস্ট হাউজ। এটা দ্বীপের প্রথম রেস্ট হাউস | ভাড়া ২০০ টাকা | ০১৭১১-১৭৩৪৩৪ ০১৭১৫-৫৪৬৭৭২ |
নিজস্ব জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে রিসোর্ট সেন্টার |
| মাহমুদ বোডিং (হোম স্টে) | ভাড়া জনপ্রতি ৫০ টাকা | ০১৭১৩-১১১৭৯৪ | সন্ধ্যা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত জেনারেটরের সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা |
| ব্যক্তিগত মালিকানায় ২-৩ টি হোটেল রয়েছে | ভাড়া ৩০০ থেকে ১০০০ টাকা | ১০-২০ সদস্যের অতিরিক্ত দল নিয়ে কোন পর্যটক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। | |
| সাইক্লোন সেন্টার | বর্তমানে এখানে অতিথি থাকা যায়না। | বর্তমানে পুলিশ ক্যাম্প নামে পরিচিত | |
| প্রাথমিক বিদ্যালয় | ০১৭১৪-৪৩৩৪৯৬ | বিদ্যালয়ে থাকতে হলে প্রধান শিক্ষকের সাথে আলোচনা করতে হবে। সূত্র: হাতিয়া জনকল্যান সমিতি চট্টগ্রাম। |
source: swapnobaj.com