বাংলা সাহিত্যের অন্যতম দিকপাল কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীন আজ ৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসের এই দিনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
কথা সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবু জাফর শামসুদ্দীন ১৯১১ সালের ১২ মার্চ গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের দক্ষিণবাগ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন । মৃত্যুর পর ৩২ বছরেও জন্মস্থানে এই কথা সাহিত্যিকের নামে গড়ে উঠেনি কোন স্থাপনা। এমনকি তাঁর জন্ম ও মৃত্যু দিবসে তাকে স্বরণ করা হয়না।
প্রগতিশীল লেখক এই আবু জাফর শামসুদ্দীন ছিলেন একজন উদার দৃষ্টিভঙ্গি, গভীর মানবিকতাবোধ ও সমাজপ্রগতির ভাবনার বিশেষ ব্যক্তিত্ব। তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ শান্তি পরিষদ, বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট সোসাইটি, বাংলা একাডেমির কার্যনির্বাহি পরিষদ, বাংলাদেশ আফ্রো-এশীয় লেখক ইউনিয়ন এবং বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সমিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের যুক্ত ছিলেন সংক্রিয় ভাবে।
তিনি উপন্যাস রচনার মধ্য দিয়ে তার সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। ১৯৪৭ সালে তাঁর প্রথম উপন্যাস ‘পরিত্যক্ত স্বামী’ প্রকাশিত হয় । তাঁর রচনায় গণমানুষের সংগ্রাম ও উদার মানবতাবাদের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হলো- উপন্যাস: ভাওয়াল গড়ের উপাখ্যান, পদ্মা মেঘনা যমুনা, সংকর সংকীর্তন ও দেয়াল। উপন্যাসের পাশাপাশি তিনি গল্প এবং প্রবন্ধও রচনা করেন।
গল্পগ্রন্থ: জীবন, রাজেন ঠাকুরের তীর্থযাত্রা, ল্যাংড়ী। শিল্পীর সাধনা ও পার্ল বাকের সেরা গল্প তাঁর দুটি অনুবাদগ্রন্থ’।
প্রবন্ধ: চিন্তার বিবর্তন ও পূর্ব পাকিস্তানী সাহিত্য, Sociology of Bengal Politics, সোচ্চার উচ্চারণ, লোকায়ত সমাজ ও বাঙ্গালী সংস্কৃতি ইত্যাদি।এ ছাড়া তিনি বেশ কয়েকটি জীবনী, আত্মজীবনী, নাটক, ভ্রমণকাহিনী এবং স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থ রচনা করেন।
এই কথা সাহিত্যিকের দক্ষিণবাগ গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির সামনে আবু জাফর শামসুদ্দীন ও তার স্ত্রীর কবর আগাছায় ভরে গেছে। পুরো বাড়ি এলোমেলো হয়ে থাকা বাড়িটি কয়েকজন নির্মাণ শ্রমিক বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করছে। আবু জাফর শামসুদ্দীনের ছেলে আহমেদ পারভেজ শামসুদ্দীন জানান, তাঁর নামে গ্রামের পুরো সম্পত্তি আবু জাফর শামসুদ্দীন ও তাঁর স্ত্রী আয়েশা আক্তার খাতুন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের কাছে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই জমি থেকে লিজের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থে ট্রাস্টের মাধ্যমে সামাজিক কাজ করা হয়।দক্ষিণবাগ গ্রামের একমাত্র কথা ও কবিতা নামের একমাত্র পাঠাগারটিও এই ট্রাস্টের মধ্যমে পরিচালীত হচ্ছে।