ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

ড্রাগন চাষ ও ক্রমে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে -মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন সজীব

সবুজ শ্যামল এই বাংলা বৈচিত্রময় ফুল ফল ও ফসলে সমাদৃত।দিন যত যাচ্ছে ততই দেশীয় নানা ফলের পাশাপাশি বিদেশী নানা জাতের ফলের চাষ ও ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে।ড্রাগন তেমনি একটি বিদেশি ফল।বর্তমানে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় এর উল্লেখযোগ্য চাষ লক্ষ করা যায়। কেউ শখের বশে বাড়ীর ছাদে,আঙিনায় আবার কেউ কেউ বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করে ব্যাপক সফলতাও পেয়েছেন।ড্রাগন ফলের চাষ ও পরিচর্যা সম্পর্কে কথা হয় নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার দিঘাকান্দি গ্রামের এক সৌখিন চাষী জনাব  মোখলেছুর রহমান এর সাথে।যিনি তার দেড় বিঘা জমিতে বিদেশী ফল ড্রাগনের চাষ করে ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি কৃষিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করেছেন।অত্যন্ত সুস্বাদু,রসালো মিস্টি গোলাকৃতির এ ফলটি কয়েকটি রঙ্গের হয়ে থাকে।কাঁচা অবস্থায় সবুজ রঙ্গের হলেও পাকলে ফলটি তার প্রকৃত রং ধারণ করে এবং এর ভিতরের অংশ গাড় লাল দানাদার যা মুখে দিলেই মিশে যায়।ড্রাগনের চাষ দেশীয় অন্যান্য ফলের চাষের মতই প্রথমে চারা রোপণের স্থানে ৩ফুট দৈর্ঘ্য,৩ফুট প্রস্থ এবং ১.৫ফুট গভীরতা বিশিষ্ট গর্ত করে ১০থেকে১২ দিন রেখে দিতে হবে।রোদে গর্তের মাটি ভাল করে শুকিয়ে গেলে এতে প্রয়োজনীয় কম্পোস্ট সার,বালি,ককোডাস্ট বা কাঠের গুঁড়া এবং ছাই ইত্যাদি মিশ্রিত করে আরও কয়েকদিন রেখে দিতে হবে।মাটিতে জো আসার পর উক্ত স্থানে ৬থকে ৭ফুট একটি মজবুত খোঁটার সাথে চারপাশে ৩ থেকে ৪টি ড্রাগনের চারা বা কলম পুঁতে দিতে হবে।রোপণের ৮ থেকে ৯ মাস পর চারা গুলোতে ফল ধরা শুরু করে।চারার বয়স প্রায় তিন বছর হলে এতে পরিপূর্ণ ভাবে ফল আসা শুরু করে এবং উপযুক্ত পরিবেশে সঠিকভাবে যত্ন নিলে প্রায় বিশ বছর পর্যন্ত একটি চারা থেকে ফল সংগ্রহ করা সম্ভব।   

অত্যন্ত আকর্ষণীয় এ ফলটির বৈজ্ঞানিক নাম Hylocereus undatus .এটি এক প্রজাতির ফল।এই ফল মূলত ড্রাগন ফল হিসাবে পরিচিত। গন চীনের লোকেরা এটিকে আগুনে ড্রাগন ফল এবং ড্রাগন মুক্তার ফল বলে।ভিয়েতনামে মিস্টি ড্রাগন,ইন্দোনেশিয়ায় ও মালয়শিয়াতে ড্রাগন ফল,থাইল্যান্ডে ড্রাগন স্ফটিক নামে পরচিত।বর্তমানে আমাদের দেশে এ ফলটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।পুষ্টি গুনের বিচারে এ ফলটিতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি ও মিনারেল রয়েছে এবং উচ্চ ফাইবার যুক্ত,ফলে ফিবার ফ্যাট,ক্যারোটিন প্রচুর ফসফরাস এসকরবিক এসিড,প্রোটিন ক্যালসিয়াম ও আয়রন রয়েছে।

স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনা করলে ক্যারোটিন সমৃদ্ধ থাকায় চোখ ভাল রাখে। আঁশের পরিমাণ বেশি থাকায় হজমে সহায়তা করে শরীরের চর্বি কমায়,হাড় শক্ত ও দাঁত মজবুত রাখে,রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃন রাখে।শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মোহাম্মদ ইব্রাহীম হোসেন সজীব

কাপাসিয়া, গাজীপুর।