ঢাকা বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

টুইন টাওয়ারের সামনে গেলে একটা সেলফি নিতে কার না মন চায়।

বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে যাবার মজা এক আর একা একা বেড়ানোর বিষয়টি আর একরকম। এবার একা একা বের হোলাম,মালায়শিয়া হয়ে সাদা হাতীর দেশ খ্যাত থাইল্যান্ড(শ্যামদেশ)।আমাদের দেশের বহু লোক বাস করে মালায়শিয়া। প্রবাশী শ্রমিক হিসেবে বাংলাদেশের শ্রমিকের ভাল সুনাম মালায়শিয়ায়।যথারীতি আমাদের চির চেনা ট্রাফিক জ্যাম পাড়ি দিয়ে হাজির হলাম এয়ার ক্রাফটে।দরিদ্রাতার অবহেলা যে সব জায়গায় সইতে হয়,তার আবার প্রমান পেলাম আন্তর্জাতিক রুটে চলা বিমানেও।এমনিতেও দেখেছি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা গুলো বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্যে পুরানো বিমানগুলো নির্ধারণ করে থাকেন।তার কোন ব্যাতিক্রম ঘটেনি এবেলায়।

মালায়শিয়ার ইমিগ্রেশন সিস্টেম নিয়ে বাস্তবিক নানা সমস্যা থাকলেও আমি ওখানকার ভাল দিকটারই মুখোমুখি হয়েছি।কুয়ালামপুর এয়ারপোর্ট থেকে বের হয়ে কুয়ালামপুর শহরে যেতে চাইলে বাস আর ট্রেনের যোগাযোগ ব্যাবস্থা ছিল আশাতীত।পাহাড় ঘেরা পাম গাছের সারি আর অজানা শহর এক ধরনের এডভেঞ্চার ভর করে চলেছে মনে। হোটেল থেকে ফেসবুক বন্ধু এসেছে রেল স্টেশনে আমাকে রিসিভ করতে।শহরের প্রান কেন্দ্রে চলে আসলাম। বাংলাদেশী ফেসবুক বন্ধুর কর্মস্থল ছিল বুকিত বিতানের ৮৮ ইন গেস্ট হাইজ।৮৮ইন গেস্ট হাইজ ম্যানেজার হিসেবে সফল এই ব্যাক্তির সাথে বের হলাম কুয়ালামপুর শহর দেখতে।ব্যাস্ত এই আসিয়ান শহরে কোথাও বীণা কারণে ঘুরাঘুরি করতে বা কর্ম ঘণ্টায় আড্ডাবাজীতে কাউকে খূজে পেলাম না।পর্যটন সহযোগী অবকাঠামোর চমৎকার ব্যাবস্থাপনা দেখে মন জুড়িয়ে যায়।কুয়ালামপুর শহর যেন লন্ডনের এক কপি।

কুয়ালামপুর শহরের বাস যোগাযোগ ট্রেন যোগাযোগ আর ট্যাক্সি যোগাযোগ পেলাম অসাধারন। যত প্রবাসী বাঙ্গালীরা যারা বৈধভাবে বসবাস ক্রেন।তাদের জন্যে মালায়শিয়া হচ্ছে প্রবাসের সহজ জীবন যাপনের আর একনাম। এখানে যেমন কাজের কোন অভাব নেই তেমনি কাজ না জানা লোকের কাজের মুল্যমান নেই।সঠিক প্রশিক্ষণ আর বৈধ ভাবে যেতে পারলে মালয়শিয়ার মানুষ বাঙ্গালী শ্রমিকদের বেশ ভাল জানে।

একানকার প্রবাসী বাঙালী ভাইদের সাথে কথা বলে জানা জায়,মহাথির মোহাম্মদের সময়কাল ছিল মালয়শিয়ার জন্যে সেরা সময়।এখন মালয়শিয়ার পুলিশ দুর্নীতিগ্রস্থ হয়ে পড়েছে।
বৈধ-অবৈধ বাছবিচার নেই।সুযোগ পেলেই তারা বিদেশী শ্রমিকদের কাছ থেকে নানা উপায়ে অর্থ আদায় করে।
আর রাতের মালয়শিয়ার কিছু এলাকা আছে যেখানে ভারতীয় তামিলরা নানা অপরাধের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করে।
তারপরও মালয়শিয়ায় প্রচুর পর্যটকের আগমন ঘতে।কেন না এশিয়ার মধ্যে মালয়শিয়া এমন একটি দেশ যার আবকাঠামো তৈরি হয়েছে পর্যটন ব্যাবসা কেন্দ্র করে।


প্রথম দিনের মালয়শিয়া কুয়ালালামপুরের দুপুর টা দেখে মনে হয়েছে, কর্মমুখী মানুষের নগরীতো এমনই হবার কথা। যেখানে মানুষ তার কাজের জন্যে কি সুন্দর যাতায়াত ব্যাবস্থা উপভোগ করে।
এখানে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা খুব কম।কিন্তু বাংলাদেশী শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেল মালয়শিয়ান পুরুষদের বেশিরভাগ টা একটু আরাম প্রিয়।আমাদের দেশের তুলনায় পরিশ্রমী কম বলে জানা যায় তাদের।আসলে তারা যে আত্মনির্ভরশীল দেশ হয়ে গেছে সেটাও তো মনে রাখতে হবে।

কুয়ালালামপুর শহর ঘুরতে গিয়ে যে বিষয়টি সবচেয়ে চোখে পড়েছে সেটি হলো ময়লা অপসারণ ব্যাবস্থাপনা (ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট)।
আসলে যে দেশের ময়লা অপসারণ ব্যাবস্থাপনা যত সুসংগঠিত সেদেশ তত উন্নত।
মালয়শিয়া,থাইল্যান্দ,সিঙ্গাপুর ইন্দিনেশিয়া,ভিয়েতনাম ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে।
আমরা ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে জাপানের সহযোগিতা নিলেও আমাদের উন্নতি ভারতের চেয়ে বেশী হলেও চোখে পড়ার মতো নয়। এখন তাই এটাকে সামজিক আন্দোলনে রুপ না দিলে আমাদের অনেক দূর পর্যন্ত পিছিয়ে থাকতে হবে।