ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

এখনো সময় আছে, আসুন কক্সবাজারকে বাঁচাই, পর্যটনকে এগিয়ে নেই, দেশকে সমৃদ্ধ করি আর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি। -সজল জাহিদ

সবার আগে তাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি যারা সেদিনের “পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!” লেখার সমালোচনা করেছিলেন যৌক্তিক বা অযৌক্তিক যেভাবেই হোক। আর এই লেখা যদি তাদের চোখে পরে, তবে কষ্ট করে একটু পড়ুন আর তারপরে বলুন সেদিনের লেখাটা কতটা বাংলাদেশ বিদ্বেষী, দেশপ্রেমহীন বা ভারত ঘেসা ছিল?
আসলে হয়েছে কি, সব সব কিছুতেই বিতর্ক না আনলে কিছু মানুষের ঠিক কেমন যেন আরাম হয়না, তাই না বুঝে, উপলব্ধি না করেই, একটু খোঁচা দেয়া আর তার টুপটুপে রস আস্বাদন করা কিছু মানুষের কাছে দারুণ বিনোদনের। তারা না বোঝে ট্যুরিজম না বোঝে তার রক্ষণাবেক্ষণ আর না বোঝে সেসব নিয়ে সচেতনতা বা একটু বিবেককে জাগ্রত করা কোন লেখার মর্ম। তাই তাদের কাছে ক্ষমা চাই, আপনাদেরকে আবারো এই বিতর্কিত লেখা পড়ার জন্য (যদি চোখে পরে)।
তবে এবার যে প্রসঙ্গ নিয়ে লেখার জন্য মানসিক চাপ অনুভব করছি সেই প্রসঙ্গে আসি? তবে তার আগে একটু নিজের বিজ্ঞাপন না দিলে মনের মধ্যে একটা খুঁতখুঁতে ভাব থেকে যাবে, তাই নিজের তৃপ্তির জন্য একটু বিজ্ঞাপনের অবতারণা। সেটা হল…
আমি সাধারনত সমালোচনা বা তেমন একটা সচেতনতামূলক লেখা লিখিনা, লিখতে ইচ্ছা হলেও মনকে বেঁধে রাখি, বেশ কষ্ট করেই। কারন সচেতনতামূলক লেখা লিখতে গেলে, সভ্য আর মাধুর্যতাপূর্ণ ভাষায় সেটা লেখা আমায় দিয়ে হবেনা। কিছু অযাচিত, অগ্রহণযোগ্য আর হয়তো অশ্লীল শব্দের সংযোগও হতে পারে!
কারন আমি যা লিখি, যা-ই লিখিনা কেন, সেটা একান্ত আবেগ আর অনুভুতির শব্দে প্রকাশ মাত্র। যারা আমার সেইসব ফালতু লেখা কমবেশি নিয়মিত পড়েন তারা সেটা জানেন। কারো আনন্দের জন্য, লাইক বা কমেন্ট পাবার জন্য আমি লিখিনা, সত্যি সেজন্য লিখিনা, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন। আমার বিবেক সেটা জানে। আর তাই অমন লেখা লিখলে সেটা নিজের কষ্টের অনুভূতিগুলো আমার তৃপ্তিদায়ক শব্দে লিখলে ঠিক সুখ পাঠ্য হবেনা। যার প্রমাণ দুই বা তিনটি লেখায় আমি পেয়েছি, যার সর্বশেষটি,
এই লেখার প্রথম পার্ট “পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!”
এবার তবে মুল প্রসঙ্গে আসি?
আমরা, আমাদের নীতিনির্ধারকরা, আমাদের পর্যটন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বা লোকজন, স্থানীয় জন-প্রতিনিধি, প্রশাসক, পর্যটন ব্যাবসার সাথে জড়িত ব্যাক্তিরা, যারা শুধু ছবি তুলতে আর সেই ছবি শেয়ার করে লাইক পেতে বেড়াতে যাই, তারা কেউই যে এসব নিয়ে ভাবেনা বা দেশের প্রকৃতি রক্ষা, পর্যটনের জন্য উপযোগী পরিবেশ, স্থানীয় খাল-নদী-নালা-ঝিরি-পাহাড়-সমুদ্রতীর বা বীচ, অরণ্য এসবের কি হল, থাকলো কি থাকলো?
না সেসব নিয়ে একটুও ভাবিনা আর এইসব সম্পদ দিয়ে কিভাবে আর কত দ্রুত কিছু কাঁচা পয়সা উপার্জন করে নিজের আখের গোছানো যায় সেসব নিয়েই মত্ত।
তার প্রমাণ, আমাদের প্রতিটি পর্যটন স্পট। চলুন একে একে উদাহারন দেয়া যাক, সাম্প্রতিক সেইসব পর্যটন স্পটের যেগুলো নিয়ে আমার উপরের মত করেই শুধু ভাবছি “পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!” এর বেশী কিছু নয় কোন ভাবেই।
সুন্দরবনঃ পাশের দেশ ভারত যেখানে জীব-বৈচিত্র রক্ষা, আরও বেশী পর্যটন উপযোগী করার জন্য তাদের সুন্দরবনের পাশে তো দুরের কথা, আশেপাশেও দেশ, সমাজ আর প্রকৃতির জন্য নিদারুণ হুমকি হয়ে আসবে, এমন প্রকল্পে হাত দেয়া তো দুরের কথা, ভাবতেও চায়না, ওরা ওদের অরণ্য গুলোকে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কাউকে প্রবেশের অধিকারই দেয়ান, পরিবেশ আর পশু-পাখির ক্ষতি হবে বলে!
সেখানে আমরা আমাদের অসম্ভব সুন্দর আর অপার সম্ভাবনাময়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা পাবার মত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তকে নিজ হাতে উজাড় করে দেবার জন্য বদ্ধ পরিকর!
হাহ, কি বলবেন, আমাদের দেশপ্রেমীকরা? কিছু বলার আছে কি?
কক্সবাজারঃ যে দেশে এমন একটা সম্পদ আছে সেই দেশ কিভাবে এখনো উন্নত না হয়ে পারে আমি ভাবতেই পারিনা। যে দেশে পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত রয়েছে, রয়েছে কোটি কোটি স্বল্প মুল্যের জনবল, সাথে লাগোয়া পাহাড়, সেই দেশে কেন অন্য কোন দেশের চেয়ে পর্যটনে পিছিয়ে থাকতে পারে, ভাবতেই পারিনা।
কারন, আপনি আমি পাহাড় যতই ভালোবাসি কিনা, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশী পর্যটনের সম্ভাবনা বা সবচেয়ে বেশী পর্যটক আকর্ষণের কেন্দবিন্দু কিন্তু সমুদ্র! একটু চোখ-কান খোলা রাখলেই সেটা বুঝতে পারবেন। দেখুন যে কোন তারকা বা বিশেষ ব্যাক্তিরা বেড়াতে বা ছুটি কাটাতে গেলে, সবার আগে কিন্তু সমুদ্রকেই বেছে নেয়! তাহলে আমরা কেন সেই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছিনা? অথচ আমাদের রয়েছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় আর সম্ভাবনাময় সমুদ্র সৈকত!
মাঝে মাঝেই পেপারে দেখি, কক্সবাজারের পাহাড় কেটে নিয়ে যাচ্ছে, এ, ও, সে…! কি অদ্ভুত, কেউ দেখেও দেখেনা! একজন আর একজনের ঘাড়ে দোষ চাপায়! আরে যে বা যারা এটা করছে সে তো দেশদ্রোহী! ওদেরকে নিয়ে এতো ভাবনা কিসের, যদি তুমি সত্যি দেশপ্রেমীক হও, তো দেখা মাত্র একশ্যান নাও না কেন?
কিন্তু কে কাকে বোঝাবে এই কথা? দেশপ্রেমীক যে সব দেশ নিয়ে ভাবছে, কিভাবে দেশটা বেঁচে আরও বড়লোক হবে! জত্তসব।
সেন্ট মারটিনঃ এটাকে আমি বলি, আমাদের সোনার ডিম পাড়া হাস! নয়তো কি? প্রথম যখন সেন্ট মারটিন যাই সেই ২০০৬ বা ২০০৭ সালে, তখন ওর রূপ থেকে পাগল হয়ে গিয়েছিলাম। আর এতটাই আবেশে আবিলুপ্ত করেছিল যে, শিপে করে ফেয়ার সময় কান্না চলে আসছিল! এমনই মায়ার বাঁধনে বাঁধা পরেছিলাম, বিশ্বাস করুন আর নাই করুন।
আর সেই সেন্ট মারটিনেই শেষবার ২০১৫ সালে যখন গেলাম তখন কান্না পেয়েছে তবে আনন্দে আর উচ্ছ্বাসে নয়, মায়ার বাঁধন ছিরে ফিরে আসার কষ্টেও নয়, ওর দুর্দশা, দুস্থ, রুগ্ন, হতচ্ছাড়া চেহারা দেখে, ওখানে আর এক মুহূর্ত থেকে নিজের বিস্বাদ বাড়াতে ইচ্ছে হয়নি তাই। ওটাকে একটা বস্তি বানিয়ে ফেলেছি আমরা দেশপ্রেমীকরা! শতশত দোকান আর হাজার হাজার হোটেল, কটেজ, ঘর-বাড়ি দিয়ে! হাহ… কিছু বলবেন?
বাকিগুলো, জাফলং-রাতারগুল-বিছানাকান্দি-লালাখাল-পাংথুমাই-টেকেরঘাট-লাউয়াছড়া-মাধবকুণ্ড আরও যেন কি কি আছে ওদিকে? এসবের বর্তমান অবস্থা নাহয় নিজেরা নিজেদের বিবেকের কাছে জিজ্ঞাসা করে নিন?
যদি থেকে থাকে বিবেকের কোন কিছু আদৌ!
শেষ করি প্রিয় আর পরকীয়ার মত নিষিদ্ধ কিন্তু অসীম আকর্ষণের, সীমাহীন সৌন্দর্যের বান্দরবান দিয়ে?
একসময় বান্দরবান যেতাম আহা, কি উচ্ছ্বাস আর আনন্দ নিয়ে, হাজারো রোমাঞ্চ আর অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় বুঁদ হয়ে।
আর এখন? সব রুট নাকি প্রায় বন্ধ! নিরাপত্তার সমস্যা! আপনার কি তাই মনে হয়? আমার কিন্তু তেমন মনে হয়না। এসবই সিন্ডিকেট, একটা ভয় আর নিষিদ্ধতা তৈরি করে মানুষের নিষিদ্ধতার প্রতি আকর্ষণ তৈরি করা, যেন অনেক টাকার বিনিময় অল্প অল্প করে মানুষকে নিয়ে অবিরাম ব্যাবসা করে ইচ্ছেমত মুনাফা লোটা যায়! যদি সত্যিই নিষিদ্ধ হত, তবে কেউ কেউ তো সেসব যায়গায় যাচ্ছে, তার আবার নিরাপদে ফিরেও আসছে, সেটা তাহলে কিভাবে সম্ভব হচ্ছে?
একটু ভেবে দেখবেন কি? তা ভাববেন কেন? আপনারা তো দেশপ্রেমীক, এতোসব ফালতু ভাবনা ভাবার সময় কোথায় আপনাদের?
নাফাখুম যেতে নাকি আজকাল ১০,০০০ টাকা লাগে!! নৌকাতেই নাকি ৫/৬ হাজার! কিভাবে, কোন যুক্তিতে, কোন হিসেবে?
বান্দরবান থেকে রুমা যেতে নাকি ৫/৬ হাজার টাকা লাগে! যেটা আমরা ১৫০০ টাকায় যেতাম!
গাইডের ভাড়া নাকি ইচ্ছেমত নির্ধারিত হয় আর বাধ্যতামূলক! কি অরাজকতা!
নদীর পাথর তুলে নাকি পর্যটন বান্ধব রাস্তা বানানো হচ্ছে? ছবিতে দেখি আর আহ আহ করি? গাড়িতেই যদি যাবেন তবে বান্দরবান কেন? রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি আর কক্সবাজার তো আছেই, সেখানেই যাননা কেন?
কেন এই সীমাহীন সম্পদের ভরপুর, অসীম সৌন্দর্যের লীলাভূমি, অপার আকর্ষণের প্রিয়তমাকে রেপ করছেন আপনারা? কিছু বলবেন কি সেসব দেশপ্রেমীকরা?
বলবেন কি? দেশপ্রেমীক না! দেশ উদ্ধার করছেন যে ফেসবুকে আর উল্টাপাল্টা কমেন্ট করে নিজেকে জাহির করে?
ভালো সহনশীল ভাষায় বলার ধৈর্য হারিয়ে ফেলছি, তাই বাধ্য হয়েই লেখার সমাপ্তি টানছি…
কারন যাই লিখিনা কেন, আমাদের চরিত্র হল…
“পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!”
বলে, লিখে, কোন লাভ নেই, হবেওনা…
দেশ গোল্লায় যাক!
আপনারা, পাইছেন টুরিস্ট, কামাইয়া লন!
পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!

যত রকমের মন খারাপ হতে পারে, সব রকমের, সবটুকু মন খারাপ নিয়েই দিয়েই শুরু করছি! আরও যা বলতে ইচ্ছা হচ্ছে বলতে পারছিনা, এই জন্য যে সেগুলো পাবলিক পোস্টে বলা সম্ভবনা আদৌ! মনে মনে বলছি আর লিখছি, তাতে যদি মনের ক্ষোভ আর আক্ষেপ কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়! যদিও হচ্ছেনা তবুও দিচ্ছি।

আচ্ছা আপনারা যারা অমানুষের মত যখন যা খুশি করছেন, আপনাদের কি কোন বিবেক বোধ নেই? আপানদের কি কোন দেশপ্রেম আছে? এই আপনাদের জন্যই আজকে দেশের কোথাও আর যেতে ইচ্ছা হয়না বুঝলেন। দেশের টাকা এখন অন্যদেশে চলে যাচ্ছে, আগামীতে আরও যাবে। তখন বসে বসে আঙ্গুল চুষবেন! চলুন কয়েকটা উদাহারন দিয়ে দেখি?

পুরো ভারতবর্ষে একটি টুরিস্ট গাড়ির ভাড়া ২৪০০-৩৩০০ রুপী ৫-১৪ জনের। বা ২৮০০-৩৮০০ টাকা। সারাদিন যতক্ষণ খুশি সেই গাড়িতে চড়া যায়। মত কথা যে কোন স্পটে গিয়ে যতখুশি বেরিয়ে আসা যায়। তাতে ড্রাইভার, গাড়ির মালিক বা এজেন্সিওর কিছুই যায় বা আসেনা।

সেখানে দীঘিনালা থেকে সাজেক যেতে আসতে আজকাল নাকি আপনারা ১০,০০০ টাকা করে নিচ্ছেন?! কত কিলো দুরত্ত? কত সময় লাগে যেতে বা আসতে? কোন যুক্তিতে নিচ্ছেন এই অযৌক্তিক ভাড়া? বলতে পারবেন?

বান্দবান, থাকনচি থেকে নৌকা ভাড়াও আজকাল দেখি ৬০০০-৭০০০ হাজারের নিচে যায়না, আর গাইড নাকি আজকাল ১০০০-২০০০ করে নিচ্ছেন শুনছি! কি আজব দেশ আর সেই আজব দেশের আজগুবি মানুষ, ব্যবস্থাপক আর তাদেরকে সহয়তাকারী অমানুষের দল সব।

এইভাবে করছেন বলেই দেশের ভিতরে আর কোথাও যাইনা, অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও। নিজেও যাইনা সাথে সাথে পরিচিত অন্যদেরকেও যেতে নিরুৎসাহিত করি প্রতিনিয়ত। যার সর্বশেষ উদাহারনটা দেই?

আমার পরিচিত কয়েকটা পরিবার সাজেক যাবে বলে রব তুলেছিল। আমার কাছে পরামর্শ আর গাইড লাইন চাইলো। আমি তাদেরকে বললাম পাগল নাকি আপনারা? জনপ্রতি ৫০০০-৬০০০ টাকা খরচ করে সাজেকের বস্তিতে গিয়ে কি করবেন?

সাজেক বস্তি শুনে আকাশ থেকে পরলেন! এবং জিজ্ঞাসা করলেন কিভাবে?

তাকে আমার তিনবারের সাজেক যাবার তিন ধরনের অভিজ্ঞতা শোনালাম। ২০১৩ সালে আমি প্রথম যেবার সাজেক যাই, সেদিন সাজেকে আমাদের একটা সিএনজি আর আমরা চারজন ছাড়া সেদিন আর কেউই ছিলোনা! সবমিলে আমাদের জনপ্রতি খরচ হয়েছি ২৩০০ টাকা! তাতে শুধু সাজেক না, সাথে আলুটিলা, রিছাং আর খাগড়াছড়ি শহরও অন্তর্ভুক্ত ছিল!

দ্বিতীয়বার ২০১৫ সালে যখন সাজেক যাই, তখন যে বাসায় থাকেছি সেই বাসার রাস্তার এপার থেকে অপার যেতে আমাকে ৩ মিনিট দাড়িয়ে থাকতে হয়েছিল, অসংখ্য গাড়ির দ্রুত গতিতে চলাচলের জন্য নিরাপত্তা স্বরূপ! যেখানে আর কয়েকদিন পরে মোড় নিতে বা রাস্তা পার হতে স্পীড ব্রেকার আর সিগন্যাল বসাতে হবে!

তারপর আগে যে বাসায় জনপ্রতি ১০০ টাকায় থেকেছিলাম, সেই বাসার মতই আর একটা বাসায় এক রাতের জন্য দুটো খাটের ভাড়া নিয়েছিল ১৫০০ টাকা! দেখে আমি পারলে সুইসাইড করি! এতটাই শক খেয়েছিলাম!

ভাইরে ভারত, নেপাল আর ভুটানে ১৫০০ টাকায় স্টার মানের রুম পাওয়া যায়, সাথে সকালের নাস্তাও থাকে!

এবার বুঝলেন সাজেক কিভাবে বস্থি আর গলাকাটা যায়গা? তারচেয়ে চলেন এই ৬০০০ টাকা দিয়েই ৪-৫ দিনের জন্য দার্জিলিং ঘুরে আসি?

আমার প্রস্তাব শুনে আমি যেভাবে আকাশ থেকে পড়েছি ওনাদের সাজেক যাওয়ার কথা শুনে, ওনারাও আকাশ থেকে পরলেন এই টাকাতেই দার্জিলিং যাবার কথা শুনে!

কি বলেন এইটা ৬০০০ টাকায় দার্জিলিং কিভাবে যাওয়া যাবে?

তাদেরকে আসস্থ করলাম, চলেন গিয়েই দেখাই নাহয়?

এরপর খুশিতে আমাকে প্রস্তাব দিলেন ভাই ৬ হাজার না, আপনি যদি জনপ্রতি ৮ হাজারেও আমাদের দার্জিলিং ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে আপনার সব খরচ আমাদের! ব্যাস এখন সব চূড়ান্ত, শুধু আগামী ব্রেকের অপেক্ষায় দিন গুনছি!

আর আপনারা যারা এসব দেশের সম্পন এভাবে লুটেপুটে খাচ্ছেন, সহয়তা করছেন তারা অপেক্ষা করেন, সেদিন আর বেশী দূরে নয়, যে আমাদের স্বপ্নের মত সাজেক, সুখের নীল সমুদ্র, পাহাড়ের প্রান বান্দরবান আর যাবেনা। একটা পাসপোর্ট করে ফেলতে পারলেই, আপনাদের অর্ধেক খরচে ভারত, নেপাল আর ভুটান বেড়াতে যাবে, আরাম, আপ্যায়ন আর নানা রকম বৈচিত্রও পাবে।

এবার আসাজাক, শুধু কি স্থানীয় জনগণ, ব্যবস্থাপনা আর ক্ষমতাবান মানুষ গুলোই কি এভাবে আমাদের সবচেয়ে সম্ভাবনার পর্যটনখাতে দিন দিন ধংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে? না মোটেই না। এই পর্যটনখাত ধংসের সাথে, আমাদের সাধারণ মানুষকে দেশে ভ্রমণে বিমুখ করতে এদের সাথে আমাদের ইভেন্ট ব্যাবসায়িরাও জড়িত!

অবাক হচ্ছেন, কিভাবে তারা জড়িত সেটা ভেবে? চলুন ভেবে দেখি আর তারপর……

যারা আপনারা যারা ইভেন্ট ব্যাবসা করছেন, তারা কি তাদের দায় মেটাচ্ছেন একটুও? আপনারা কি ব্যবসার বাইরে আর কিছু বোঝেন না?

তার মানে এই নয় যে আমি ইভেন্ট ব্যবসাকে অপছন্দ করছি। মোটেই সেটা নয়। আমি আপনাদের উদ্যেগ আর নিজ পায়ে দাড়িয়ে, নিজের মত করে কিছু করে চলাটাকে অনেক সম্মান করি। শ্রদ্ধা করি। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন আপনাদের ব্যবসার ফাঁদে পরে, চাপে পিষ্ট হয়ে, সাধারণ, অল্প আয়ের, নিজ উদ্যেগে, কলেজ বা ভার্সিটির হাত খরচ বাচিয়ে যে ছেলে বা মেয়েটি বেড়াতে যেতে চায় বা চাইছে তাদের কি হবে?

নাহ ভাবেন নি। একদম ভাবেন নি। যদি ভাবতেন তাহলে পর্যটনের আজ এই দশা হতোনা কিছুতেই। কারন আপনারা বড়-বড় কর্পোরেট ট্যুর করে, বিশাল-বিশাল টিম নিয়ে যান, এক সাথে ৫০/৮০/১০০/২০০ জনের। তখন তো আপনাদের মত মালদার পার্টি দেখে, ৫০০০ টাকার চাদের গাড়ি ৮০০০ বা ১০০০০ হাজার টাকা চাইবেই। আর আপনি যেহেতু নিজের পকেট থেকে টাকা দিচ্ছেন না, নিচ্ছেন আপনার গ্রুপের সবার কাছ থেকে, তাই তাদেরও খুব একটা গায়ে লাগেনা দিতে। কারন ৫০ জনের টিমের মাথা প্রতি কতই বা আর আসবে?

কিন্তু, কিন্তু, কিন্তু… যে ছেলেটি, মেয়েটি বা কলেজ-ভার্সিটির কয়েকজন বন্ধু মিলে সাজেক যেতে চাইছে বা গিয়ে জানতে পারছে, ৫০০০ টাকার গাড়ি এখন ১০০০০ টাকা চায়! তখন সে কি করবে? যে ছেলেটি একা একা গিয়েছে, কারো সাথে শেয়ারে যাবে ৪০০/৫০০ টাকা দিয়ে সে যখন জানে যে যেতে-আসতে ১০০০ টাকা লাগবে তখন তার কি হবে? সে তো আর যেতেই পারবেনা ভাই!

কারন তার তো সাকুল্যে বাজেটই ছিল ২৫০০/৩০০০ টাকা। এখন কি করবে?
ঠিক একই রকম চিত্র পার্বত্য এলাকায়, গাইড, নৌকা আর ঘর ভাড়ার ক্ষেত্রেও! কারা করেছে এটা? আপনারা, যারা কর্পোরেট ইভেন্ট ব্যাবসা করছেন নিয়মিত, বা বড় লোকের ছেলে মেয়েদের পাহাড়ে সেলফি তুলতে নিয়ে যাচ্ছেন আপনাদের লাভের ফাঁদে ফেলে! হ্যাঁ এই দায় আপনাদেরও কম নয়! কারন আপানাদের যা খুশি চাও, নাও, মনোভাব দেখেই স্থানীয় লোকজন ইচ্ছামত সবকিছুর দাম বাড়িয়েছে, ভাড়া বাড়িয়েছে, গাইডের রেট বাড়িয়েছে।

আপনি, আপনারা একবারও এমন ক্ষেত্রে কি বলেছেন যে না ভাই, আমরা আগের রেটে যাবো, আগের ভাড়ায় যাবো, আমাদের ইচ্ছামত যাকে খুশি তাকে নেব। কারো কোন ফালতু নিয়ম মানিনা? বলেছেন? বলে কেউ ফিরে এসেছেন? নাহ আসেননি!

একবার ফিরে আসতেন, দেখতেন নিজেদের পেটের ভাত জোটাতে ঠিক আগের যায়গায় ফিরে যেত, যেতে বাধ্য হত। কিন্তু আপনারা সেটা করেননি। যা চেয়েছে তাতেই সম্মতি দিয়েছেন, টাকা নিয়ে দিয়েছেন আপনার সদস্যদের কাছ থেকে! ব্যাস জব ডান। ক্লায়েন্ট খুশি! আর আপনিও। ব্যবসা তো হয়েছে। রেটে কি যায় আসে? কারন আপনার পকেট থেকে তো আর যায়নি একটা টাকাও। তাই আপনার মাথা ব্যাথাও নাই। স্বাভাবিক। কিন্তু তাতে করে কার ক্ষতি হল, কাদের ক্ষতি হল, কতটা ক্ষতি হল? একবারও কি ভেবে দেখেছেন? নাহ দেখেন নি। কারন সেটার প্রয়োজন তো আপনার নাই।

আপনারা ওই ওদের মতই,

“পাইছেন টুরিস্ট, কামাইয়া লন!”

আর তাই যদি না হবে, যদি সত্যি দেশকে ভালোবেসে থাকেন, সত্যি যদি আপনাদের দেশপ্রেম থেকে থাকে, সত্যি যদি মনে প্রানে চান যে দেশের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পর্যটন খাত এগিয়ে যাক, দেশে টাকা দেশেই থাকুক, পর্যটন থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় হোক।

আর সাধারণ মানুষ দেশের আনাচে-কানাচে নিজের ইচ্ছা মত অল্প খরচে ঘুরে বেড়াতে পারুক, তাহলে চলুন আপনাদের ঘোষিত কয়েকটি ইভেন্ট বন্ধ করে দিন। ওদেরকে জানিয়ে দিন আগের যায়গায় সবকিছু না গেলে আমরা আর যাবোনা। ইচ্ছা হলে গাইড নেব, না হলে নেবনা।

দেখুন ওরা কি করে, সবকিছু আপনার আমার মত করে করতে বাধ্য হবে। যেটা অন্য দেশের পর্যটন এলাকার মানুষরা করে, বেড়াতে যারা যায়, তাদের মত করে।

তাকি করবেন? সেই সাহস, সাধ্য, ইচ্ছা, সাধরন মানুষের প্রতি ভালোবাসা, দেশপ্রেম আর পর্যটনের প্রতি সত্যি কারের কোন টান আছে? চান কি মনে প্রানে যে আমাদের পর্যটনখাতও অন্যদের মত এগিয়ে যায়? তাহলে আসুন?
নাকি আপনিও এই দলে?

“পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!”

আজকে ছিল গোয়ার তৃতীয় দিন। আর আজকেই কক্সবাজারের সাথে গোয়ার আসল পার্থক্য গুলো চোখে আঙুল দিয়ে আমাকে দেখিয়ে দিল, নর্থ থেকে সাউথ গোয়া যাবার সময়। এই প্রায় ৫৫ কিলোমিটারের মাঝে অবস্থিত সকল কিছু। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, গাছপালা, পাহাড় জঙ্গল, পুরনো আর ঐতিহ্যবাহি নানা রকম স্থাপনা আর চোখ জুড়ানো নির্মল প্রকৃতি। শান্ত, নিবিড় আর কোলাহলহীন এক সৈকতের শহর গোয়া। কোথায় কোথায়, কিভাবে, কিভাবে আর কেমন কেমন সেই পার্থক্য গুলো এই সবই বলবো আজকের গল্পে।

দ্বিতীয় দিন সন্ধায় সৈকত থেকে রুমে ফেরার পরে, হোটেল থেকে জিজ্ঞাসা করা হল আমরা নর্থ গোয়াতে সাইট সিয়িং করতে যেতে চাই কিনা? জিজ্ঞাসা করলাম, কি রকম ব্যবস্থাপনা? বলা হল পুরো নর্থ গোয়ার বিশেষ বিশেষ কয়েকটা বীচ, ফোরট, ডলফিন পয়েন্ট, ক্রুজ সাফারি আর আইসল্যান্ড এর যায়গা গুলো এসি গাড়িতে করে নিয়ে যাবে, যার সিট প্রতি সারাদিনে জন্য ভাড়া দিতে হবে ৩০০ রুপী করে। আমরা চাইলে দুই সিটও নিতে পারি ৬০০ রুপী দিয়ে সেক্ষেত্রে বাচ্চাকে কোলে রাখতে হবে। কোন বাধ্য বাধকতা নেই।

শুনে রুমে চলে গেলাম একটু পরে জানাবো বলে। তারপর একটু বাইরে গেলাম খোঁজ নিতে যে সারাদিনের জন্য ছোট একটা গাড়ি ভাড়া কত পরবে বুঝতে। গিয়ে খোঁজ নিয়ে জানলাম ৩০০০-৫০০০ পর্যন্ত এক দিনের গাড়ি ভাড়া, সিট আর আকার ভেদে। শুনেই ঝটপট চলে এলাম রুমে, ছেলের মাকে বলতেই সে দ্রুত তিনটা সিট বুকিং করে দিতে বলল। ব্যাস সামনে গিয়ে তিন জনের জন্য তিনটি সিট বুক করলাম ৯০০ রুপী দিয়ে। পরদিন আমাদের নর্থ গোয়া দর্শনের আনন্দে বেশ খুশি খুশি লাগছিল।

সকাল ৮ টায় সবাই প্রস্তুত হয়ে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছি। আসলে গাড়ি গেটেই দাড়িয়ে আছে, হোটেলের অন্যান্য যারা যাবে বলে বুকিং করেছে তাদের সবার জন্য অপেক্ষা করছি। ৮:৩০ এর মধ্যে সবাই এসে পরাতে আমাদের ১৫ সিটের এসি গাড়ি ১২ জনকে নিয়ে চলতে শুরু করলো সাউথ থেকে নর্থ গোয়ার দিকে। আর এরপরেই শুরু হল কক্সবাজারের সাথে গোয়ার আসল পার্থক্য গুলো চোখে পরা।

গাড়ি আমাদের হোটেল থেকে মুল রাস্তায় উঠে চলতে শুরু করতেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম গোয়া যে একটা প্রাচীন শহর, বহু বছর আগে গড়ে উঠেছে, সেটা যেন ঠিক তেমনিই আছে! অবাক ব্যাপার। বাড়িঘর সেই যেমন তৈরি হয়েছিল হয়তো ৫০ বছর আগে তেমনি আছে, রেখেছে। রাস্তাঘাট যেমন সংকীর্ণ ছিল তেমনই আছে, গাছপালা যেখানে যেমন গড়ে উঠেছে সেটাও তেমন ভাবেই বেড়ে উঠছে বা ঠায় দাড়িয়ে আছে। কোথাও কোন আধুনিকতার ছোঁয়া নেই, কোন বাড়তি আকর্ষণ তৈরি করার জন্য বাহুল্যতা নেই, আর্টিফিশিয়াল সবুজের ছড়াছড়ি নেই।

একটা ব্যাপার যদি একটু ভেবে দেখেন তো বুঝতে পারবেন। আমরা যারা জীবনের তাগিদে সব সময় শহরে বসবাস করি, একটু প্রকৃতি, সত্যিকারের ন্যাচারাল সবকিছু আমাদের সবাইকে খুব টানে, সেটা সবুজ মাঠ হোক বা পুরনো গাছপালা বা বন জঙ্গলের মধ্যে গড়ে ওঠা আদি ঘরবাড়ি। যে কারনে গোয়াকে আরও বেশি ভালো লেগেছে, কেউ কোথাও কোন অযথা আকর্ষণ তৈরি করতে গিয়ে আসল প্রকৃতিকে উজাড় করে দেয়নি।

পুরনো জীর্ণ বাড়ি ভেঙে নতুন সুউচ্চ স্থাপনা গড়ে তলেনি, পাহাড়ের গায়ে গায়ে সাময়িক কটেজ তৈরি করেনি, যা যেমন ছিল তা সেভাবে রেখেই শুধু মানসিকতার পরিবর্তন করে, মননে আধুনিক হয়ে পৃথিবীর অন্যতম আকর্ষণীয় সমুদ্র শহর করে ফেলেছে। শুধু সুযোগ, সুবিধা আর নানা রকম আধুনিক আয়োজন রেখে। প্রকৃতি ঠিক যেমন ছিল অনেকটা তেমনই আছে। অন্তত আমি যতটুকু ঘুরেছি সেসব তেমনই লেগেছে আমার কাছে।

কিন্তু আমাদের কক্সবাজার? তার কি হাল সে তো আমরা সবাই জানি। সোনার ডিম পাড়া হাঁস এখন মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে। প্রকৃতি, পাহাড়, বন, এমনকি সৈকত উজার করে দিয়েও আমরা গড়ে তুলেছি আর প্রতিনিয়ত তুলছি যত উঁচু সম্ভব ইট, পাথর আর স্টিলের পরিবেশ দূষণকারী স্থাপনা। ইট আর পাথরের দেয়ালে আজকাল দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতও চোখের আড়ালে চলে গেছে! এই হল আমাদের পরিবর্তন, আর এই হল আমাদের উন্নয়ন আর এই হল আমাদের এগিয়ে যাওয়া! হ্যা এগিয়ে যাওয়াই বটে তবে সামনের দিকে নয় পিছনের দিকে, প্রকৃতি, পাহাড়, অরন্য আর সমুদ্রের তীরকে চিরতরে ধংস করে দিয়ে!

আমরা প্রতিযোগিতা করছি প্রকৃতিকে কত বাঁচিয়ে রাখা যায়, কক্সবাজারকে কত আকর্ষণীয় করা যায়, কত দেশি বিদেশী পর্যটক কক্সবাজারে এনে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা যায় আর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায় সেটার না। আমরা প্রতিযোগিতা করছি কে কত বড় স্থাপনা গড়তে পারি, কে কতটা পাহাড় কেটে নিজের করে নিতে পারি, কে কোন অরন্য ধংস করে রিসোর্ট বানাতে পারি, কে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বীচে ধংস করে সমুদ্রের কতটা কাছে নিজেদের সুউচ্চ স্থাপনা তৈরি করে টুরিস্ট ধইরা, কামাইয়া লইতে পারি এসবের।

কারন আমাদের লক্ষ্যই হল পাইছি টুরিস্ট, কামাইয়া লই!

কিন্তু আজ থেকে ১০/২০ বা ৫০ বছর পরে কি হবে? কে আসবে, পরিবেশ, পরিস্থিতি, আকর্ষণ আর বীচের অবস্থান কি দাঁড়াবে সে কথা কেউ একবারও ভাবিনা, ভাবছিনা, ভাবার দরকারও নেই। ভেবে কি করবেন বলুন? আপনারা পাইছেন টুরিস্ট, কামাইয়া লন!

আর আমাদের নীতিনির্ধারকরাও ঠিক এমনি পাইছো টুরিস্ট, কামাইয়া লও! খালি আমারে কিছু ভাগ দাও! এই হল আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় পর্যটন সম্পদ, সবচেয়ে বড় আর জনপ্রিয় আকর্ষণের বর্তমান চিত্র। তাহলে কিভাবে আমরা অন্য দেশে কম আকর্ষণীয় বীচের সাথে নিজেদের তুলনা করবো? যেখানে অন্য দেশের বীচের কাছে কিছু স্থাপনা থাকলেও সেগুলো প্রকৃতি ধংস করে নয়। অন্তত আমি যেটুকু যায়গা দেখেছি আর যে কটা বীচে ঘুরেছি।
কোথাও বীচ ঘেসে, অরন্য উজার করে, পাহাড় কেটে, নিজেদের আদি প্রকৃতি ধংস করে কোন কিছুকে, কোন বীচকে আকর্ষণীয় করতে দেখিনি।

আর জানেন, এই ন্যাচারল সবকিছুর জন্যই, নানাবিধ আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ সুবিধার জন্য, অল্প খরচে নিজেদের মত করে অনেকদিন ঘুরতে পারার জন্য গোয়াতে সারা বছর শত শত নয়, হাজার হাজার, লাখ, লাখ বিদেশী পর্যটক আসে, থাকে আর ইচ্ছামত ঘুরে বেড়ায়। আর ওরা এই দিয়ে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করে নেয়, কর্মসংস্থান বাড়ায়, আর দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে সক্রিয় ভুমিকা রাখে।

কিন্তু আমাদের এতো বিশাল, এতো দীর্ঘ, এতো আকর্ষণীয়, এতো উচ্ছ্বসিত, এতো মাতাল করা কক্সবাজারের মত বীচ থাকা সত্ত্বেও কেন তেমন একটা বিদেশী দেখা যায়না? কেন কক্সবাজারের মত এতো বিশাল একটা সম্পদ থাকা সত্ত্বেও আমাদের লাখ লাখ ছেলে মেয়ে বেকার বসে থাকে? কেন আমাদের এখানে কোন টেকসই উন্নয়ন হয়না? কেন আমাদের কক্সবাজারকে নিয়ে দীর্ঘ মেয়াদী কোন কার্যকরী পরিকল্পনা হয়না? কেন কক্সবাজার দিয়ে আমাদের উল্লেখযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয়না? কেন কক্সবাজার আমাদের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক ভুমিকা রাখতে পারছেনা?

কেন স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরেও এমন একটা রুটে একটা ট্রেন লাইন হলনা? কেন কক্সবাজার যেতে ঢাকা থেকে মাত্র ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ১২\১৫ বা ২০ ঘণ্টা সময় লাগবে? কেন যেতে আর আসতে দুইদিন সময় লাগবে? কেন একটা রূপচাঁদা মাছ খেতে ৪ থেকে ৫ শত টাকা লাগবে? কেন একটা চারজনের পরিবারের সকালের নাস্তা খেতে ৯০০ টাকা লাগবে? কেন কক্সবাজার থেকে ইনানি যেতে ১০০০ টাকা ভাড়া লাগবে? কেন হোটেল রুমে বসে সমুদ্রের পরিবর্তে শুধু ইট পাথরের স্থাপনা দেখতে হবে?

কেন আবার? পাইছেন টুরিস্ট, কামাইয়া লন!

কিন্তু কইদিন আর কামাইবেন? মানুষ এখন আর অতো গাধা, খোঁড়া আর ভীতু নাই, এখন দেশের চেয়ে বিদেশে বেশি যায়। কিছুদিন পরে আরও যাবে, তখন সোনার ডিম পাড়া কক্সবাজার টুরিস্ট এর অভাবে খাঁ খাঁ করবে, আপনারা বসে বসে সারা বছর মাছি মারবেন, সমুদ্রের ঢেউয়ের পরিবর্তে চারদিকে আপনাদের নিজেদের গড়া ইট আর পাথরের হোটেল দেখবেন আর হায় হায় করবেন। যা খাবার খাইয়া লন…

পাইছেন টুরিস্ট, কামাইয়া লন!

এখনো সময় আছে, আসুন কক্সবাজারকে বাঁচাই, পর্যটনকে এগিয়ে নেই, দেশকে সমৃদ্ধ করি আর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখি। না হয় বড় আফসোস হবে আমাদের হারানো সম্পদ নিয়ে।