ঢাকা রবিবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২২

অব্যবস্থাপনা আর দালালদের নিয়ন্ত্রনেই চলছে ভুড়িমারি বন্দর

বিশেষ প্রতিনিধিঃআব্দুল্লাহ আল মোমেন

ভ্রমণ আর ব্যাবসা বানিজ্যের অপার সম্ভাবনাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছে উত্তর বঙ্গের লালমনিরহাট জেলার ভুরিমারি স্থল বন্দর।

কিন্তু সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইমিগ্রেশনের বিল্ডিং এবং এর চারপাশের গা ঘিনঘিনে পরিবেশ, নোংরা আবর্জনায় ভরা করিডোর, বালু-কাঁদাময় ওয়েটিং রুম। যেখানে যাত্রীর চেয়ে দালালের পরিমাণ অধিক দেখা যায়। আর সেই সাথে তো রয়েছেই যার কাছ থেকে যেভাবে পারে টাকা খসিয়ে নেবার নানা রকম ছল চাতুরী। বাটপার আর ঘুষ খোরের একটা আখড়া হল বুড়িমারি বন্দর। যেখানে পাড়ি দিতে হবে ধুলোর সাগর, ভাঙা এবড়ো-থেবড়ো রাস্তা, ড্রেনের দুর্গন্ধ, দালালদের সব রকম কুরুচিপূর্ণ গালাগালি, ব্যাগ-পত্র নিয়ে টানাটানিসহ আরও নানা রকম বিড়ম্বনা।এছাড়াও এখানকার টয়লেটরের অবস্থা ব্যবহার অযোগ্য।নারী /পুরুষদের জন্য ব্যাবহার অনুপযোগী নোংরা দুর্গন্ধময় পরিবেশ থেকে রেহাই পাবার কোন সুযোগ নাই।

অন্যদিকে ইমিগ্রেশনে ঢুকতেই আপনি নিজে করুন আর যেই ফরম পুরন করুন পাসপোর্ট প্রতি ৩০০-৫০০ টাকা চার্জ ধার্য করে বসে থাকবে, সেটা আপনি কত কমাতে পারবেন আপনার দক্ষতার ব্যাপার। আর আপনার পাসপোর্টে যদি থাকে অন্য কোন পোর্টের ভিসা, তবে তো ওরা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেল অবস্থা! তখন পাসপোর্ট প্রতি ১০০০ টাকা!

এরপর আসুন ইমিগ্রেশন বসা পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার যেন খুব মামুলি বিষয়।আপনার সাথে টাকা পয়সা নিয়ে রফা হয়ে গেছে তো আপনার সাথে কোন সমস্যা নাই। কিন্তু যার সাথে হয়নি, তাকে বা তাদেরকে বলবে এই আপনারা ১০ মিনিট পরে আসেন। এখানে পিক আওয়ারে অফ পিক আওয়ার বলতে কিছু নেই।

বাংলাদেশ থেকে ভারতের নানা যায়গায় যায়, প্রত্যেকের কাছ থেকে সরকার কমপক্ষে ৫০০ টাকা করে রাখছে ভ্রমণ কর হিসেবে। বন্দরের উন্নতি, যাত্রীদের সেবা, ভালো মানের অবকাঠামো আর ভালো একটা কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন ব্যাবস্থাপনার জন্য এর কোন বরাদ্দ নেই বলে মনে হয়।ভ্রমণ কর নেবার পর যদি ভ্রমণকারীরা সামান্য সুবিধা না পায় তাহলে বিচার চাওয়ার জায়গা কোথায়। ভুড়িমারি এই বন্দর কে যদি সময়পোযুগি আধুনিক স্থল বন্দরে পরিণত করা যায় তাহলে বাড়বে রাজস্ব আর দেশের মানুষ পাবে বন্দরের আধুনিক সেবা।